প্রধানমন্ত্রী করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মানুষকে উৎসাহ দিতে এবার ক্রীড়াবিদদের এগিয়ে আসতে অনুরোধ

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শুক্রবার সমস্ত ক্রীড়াবিদদের সাথে ভিডিও কনফারেন্স-এর মাধ্যমে যোগাযোগ করেন। করোনার মতো এই অতিমারী মানুষের মনোবল ভেঙে দিয়েছে। তাই তিনি অনুরোধ জানান তাঁরা যেন মানুষকে এই পরিস্হিতির সাথে লড়াই করার জন্য উৎসাহ দেন।

প্রধানমন্ত্রী জানান, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে এখনও অবধি কোনোদিন ক্রীড়াজগতে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ খেলা অলিম্পিক বন্ধ হয়নি। কিন্তু এইবার প্রথমবারের জন্য চার বছর অন্তর হওয়া অত্যন্ত সুপ্রাচীন একটি খেলা স্থগিত হয়েছে। শুধু তাই নয় এর পাশাপাশি কিছু আন্তর্জাতিক গেমস যেমন উইম্বলডন আর জাতীয় স্তরের কিছু গেমস যেমন ক্রিকেটের জন্য ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ, এই ক্রীড়া ইভেন্টগুলিও মহামারী কারণে স্থগিত করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী এদিন ভিডিও কনফারেন্সে সবার ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, ‘এতদিন খেলার মাঠে তাদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখে দেশব্যাপী মানুষ তাদের জন্য গর্ব করেছেন, এবার তাদেরও মানুষের মনোবল বাড়াতে সাহায্যের হাত বাড়াতে হবে। এই ভয়াল পরিস্হিতিতে মানুষকে লড়াইয়ের প্রেরণা দিতে হবে এবং পাশাপাশি তাদের Social Distancing বা সামাজিক দূরত্ব সম্পর্কেও সচেতন করতে হবে। কারণ এই সামাজিক দূরত্বই পারে করোনাকে চিরতরে নির্মূল করতে।’

তিনি বলেন তাঁরা যেন এই পাঁচটা বিষয়ে মানুষের কাছে বার্তা পৌঁছন-

• সংকল্প- যা তাদের এই অতিমারীর বিরুদ্ধে লড়তে সহায়তা করবে
• সংযম- যা তাদের সামাজিক দুরুত্বকে বজায় করার কথা মনে করাবে
• আত্মবিশ্বাস- যা তাদের মধ্যেকার পজিটিভিটিকে ধরে রাখবে।
• সম্মান- তাঁরা যেন সম্মান প্রদর্শন করেন সমস্ত জরুরীকালীন ব্যবস্থার সাথে যুক্ত ডাক্তার, নার্স, মেডিক্যাল স্টাফ, পুলিশ, ইঞ্জিনিয়ার, সাফাইকর্মীদের প্রতি।
• সহযোগিতা- তাঁরা যাতে এগিয়ে এসে এই দুঃসময় প্রধানমন্ত্রী তহবিলে (PM CARES fund) এ নিজেদের সামর্থ মতো কিছু অনুদান দেন।

এর পাশাপাশি তিনি তাদের আয়ুষ মন্ত্রক কর্তৃক প্রকাশিত নির্দেশিকাগুলি মেনে শারীরিক ও মানসিক উভয় ফিটনেসের গুরুত্ব তুলে ধরতে বলেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলে সমস্ত ক্রীড়াবিদরাও ভীষণ খুশি হয়েছেন এবং তার এই উদ্যোগকে বাহবা জানিয়েছেন। তারা নিশ্চিত করেছেন যে এই যুদ্ধের সমস্ত সৈনিক যেমন ডাক্তার, নার্স, মেডিক্যাল স্টাফ, পুলিশ, ইঞ্জিনিয়ার, সাফাইকর্মী সবাই তাদের নিরলস পরিশ্রমের জন্য সম্মান পাবেন। তারা জানান একজন খেলোয়াড়ের জন্য নিয়মানুবর্তিতা, মানসিক দৃঢ়তা এবং শারীরিক সুস্থতা কতটা জরুরি। তাই তারা এই পাঁচটি পয়েন্টের গুরুত্ব বোঝেন এবং তা যেন মানুষের কাছেও যথাযথ ভাবে পৌঁছয় তাও তারা দেখবেন।

প্রায় ৪০ জন তাবড় তাবড় ক্রীড়াবিদদের সাথে প্রধানমন্ত্রী আলোচনায় বসেছিলেন। যার মধ্যে ছিলেন ভারতরত্ন প্রাপ্ত শচীন তেন্ডুলকার, বিসিসিআই সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলি, মহিলা হকি টিমের ক্যাপ্টেন রানী রামপাল, ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় মিস পিভি সিন্ধু, কাবাডি খেলোয়াড় এবং হিমাঞ্চল প্রদেশের পুলিশ ডিএসপি শ্রী অজয় ​​ঠাকুর, দৌড়বিদ হিমা দাস, প্যারা অ্যাথলেট হাই জাম্পার শ্রী শারদ কুমার, শীর্ষ টেনিস খেলোয়াড় অঙ্কিতা রায়না, পারদর্শী ক্রিকেটার শ্রী যুবরাজ সিং এবং পুরুষদের ক্রিকেট দল অধিনায়ক শ্রী বিরাট কোহলি। কেন্দ্রীয় যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এবং মন্ত্রকের অন্যান্য কর্মকর্তারাও এই কথোপকথনে অংশ নিয়েছিলেন।

RELATED Articles

Leave a Comment