করোনা টিকার ছাড়পত্র মিললে প্রাধান্য পাবে ওড়িশা, ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রীকে জানালেন সিরামের সিইও

করোনা সংক্রমণের হার যত বাড়ছে করোনা প্রতিষেধকের চাহিদাও ততই বাড়ছে। সম্প্রতি অক্সফোর্ড-এর বিজ্ঞানীরা তাদের প্রথম পর্যায়ের হিউম্যান ট্রায়ালে সাফল্য পেয়েছেন। ভারতের অন্যতম ভ্যাকসিন নির্মাণকারী সংস্থা সিরাম ইনস্টিটিউট এবার অক্সফোর্ড-এর তৈরি করোনার টিকা অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরির দায়িত্ব পেয়েছে। সিরামের সিইও আদর পুনাওয়ালা আশাবাদী যে, আগামী অক্টোবর-নভেম্বরের মধ্যেই করোনা প্রতিষেধক ভারতের বাজারে চলে আসবে।

ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়কের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল আলোচনায় বসে পুনাওয়ালা বলেন, ‘এ বছরের শেষের দিকে করোনা প্রতিষেধক তৈরি হয়ে যাবে এবং টিকার পরবর্তী ট্রায়াল দেশে আগামী মাসের মাঝামাঝিতে শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’

পাশাপাশি, তিনি আরো জানিয়েছেন যে, টিকা তৈরির কাজ শুরু হয়ে গেলে এবং সেটিকে বিক্রির ছাড়পত্র পাওয়া গেলেই ওড়িশা সরকারের সাথে চুক্তি করবে সিরাম ইনস্টিটিউট।

অন্যদিকে নবীন পট্টনায়কও আশা প্রকাশ করেছেন, সিরাম করোনা টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে ছাড়পত্র পেলে প্রাধান্য পাবে ওড়িশা সরকার। এ ব্যাপারে সিরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখবে ওড়িশা সরকার।

তবে শুধু রাশিয়া কিংবা অক্সফোর্ডই নয়, ভারতেও শুরু হচ্ছে করোনার হিউম্যান ট্রায়াল। ভারতে তৈরি টিকা কোভ্যাক্সিনের হিউম্যান ট্রায়ালের জন্য যে ১২টি প্রতিষ্ঠানকে নির্বাচন করা হয়েছে তার মধ্যে একটি হল ভুবনেশ্বরের ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস ও এসইউএম হাসপাতাল। এর জন্য এখন স্বেচ্ছাসেবকদের নির্বাচন চলছে। স্বেচ্ছাসেবকরা যেভাবে এই ট্রায়ালের জন্য এগিয়ে আসছেন তা অত্যন্ত প্রেরনাদায়ক বলে মনে করেছেন হাসপাতালের ট্রায়াল প্রক্রিয়ার প্রিন্সিপাল ইনভেস্টিগেটর ও কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ভেঙ্কট রাও।

যারা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে নিজেদের নাম নতিভুক্ত করছেন তাদের প্রত্যেকের স্বাস্থ্য যাচাই করে তাঁদের নমুনা দিল্লির একটি নির্দিষ্ট ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হচ্ছে। এরপর ওখান থেকে রিপোর্ট এলেই নির্দিষ্ট কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবকের ওপর করোনা টিকা কোভ্যাক্সিনের প্রয়োগ করা হবে। ভারতের মানুষের কাছে যেভাবে এই বছরটা একটা বিভীষিকা হয়ে এসেছিল আশা করা যায় এই বছরটা যেতে যেতে মানুষকে একটু আশার আলো দেখিয়ে যাবে।

RELATED Articles

Leave a Comment