ডাকার অপরাধে দুই সপ্তাহ ধরে শক্ত টেপ দিয়ে মুখ বাঁধা রইল পোষা সারমেয়র, কেরলে ফের প্রকাশ্যে পশু নির্যাতনের চিত্র

কেরলের মানুষজন কি পাগল হয়ে গিয়েছেন? যে রাজ্যে সাক্ষরতার হার দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ ৯৪ শতাংশ সেখানে একের পর এক নৃশংস প্রাণী নির্যাতনের ঘটনা সাধারণ মানুষের মনে কেরালা বাসীদের জন্য বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেই চলেছে। কেরলের হস্তিনী হত্যার ঘটনা আলাদা কিছু নয়। ঘটনার কয়েকদিনের মাথায় আবারও একটি পশু নির্যাতনের ছবি সামনে আসায় কেঁপে উঠছে দেশ। এমনও হতে পারে?

ঠিক কী হয়েছে কেরালায়?

দু’সপ্তাহ আগে থিসুরের পশু সুরক্ষা ও নিরাপত্তা পরিষেবা কেন্দ্রের একটি ফোন আসে। যেখানে বলা হয়, উল্লুরে একটি কুকুর রাস্তায় মুখ বাঁধা অবস্থায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। খেতে পারছে না, জলও মুখে নিতে পারছে না। জানানো হয়, একটি লাল রঙের টেপ দিয়ে কুকুরের মুখ আটকে দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এই অবস্থায় থাকার কারণে কুকুরটি ভয়ানক যন্ত্রণায় রয়েছে।

সঙ্গে সঙ্গে সেই সুরক্ষা কেন্দ্রের কর্মীরা কুকুরটির খোঁজে ছুটে যান। তাদের মধ্যে এক কর্মী যা বিবরণ দিয়েছেন তা রীতিমতো ভয়াবহ। তিনি জানিয়েছেন, কুকুরের বয়স তিন বছর। তাঁরা প্রথমে কুকুরটিকে দেখে মনে করেছিলেন, তার মুখ বাঁধা একটি টেপ দিয়ে। কিন্তু না, পরে পরীক্ষা করে দেখা যায়, একাধিক টেপ দিয়ে শক্ত করে কুকুরের মুখ বাঁধা রয়েছে। এতটাই শক্ত করা হয়েছে যে কুকুরটির মুখে টেপটি বসে গিয়েছে। গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছে। এই কারণে হয়ত দীর্ঘদিন কুকুরটি খেতেও পারেনি। কোন মানুষ যে এরকম নৃশংস কাজ করতে পারে তা কুকুরটিকে না দেখলে বোঝা যেত না বলে জানাচ্ছেন ওই কর্মীরা।

টেপ খুলে দেওয়ার মুহূর্তেই চিকিৎসা শুরু করার সময় কুকুরটি নাকি একসঙ্গে দু’লিটার জল খায়। চিকিৎসায়ও সাহায্য করে সে। কিন্তু এমন ভাবে শক্ত করে তার মুখ বাঁধা ছিল যে টেপ চামড়া কেটে বসে গিয়েছিল। মাংস বেরিয়ে এসেছিল মুখের।

আহত অবস্থায় উদ্ধার করার পর কুকুরটিকে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। সেখানে কুকুরটির চিকিৎসা করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়। আপাতত সেটি সুস্থ অবস্থায় আছে। উদ্ধারকারী দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সম্ভবত একটি পোষা কুকুর, কারণ এর কলার আছে। মনে করা হচ্ছে, ক্রমাগত ডাকার অপরাধেই তাঁর মুখ বেঁধে এমন শাস্তি দিয়েছে কেউ! কীভাবে কোন মানুষ এই কাজ করতে পারে তা কিছুতেই মাথায় আসছে না কারোরই।

RELATED Articles

Leave a Comment