ধর্মীয় আচারকে কেন্দ্র করে সহিংসতা! হনুমান চালিশা পাঠের সময় হামলা, আহত বহু ভক্ত!

ধর্ম মানুষের বিশ্বাস ও সংস্কৃতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যুগে যুগে সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যেতে ধর্মের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তবে কখনও কখনও ধর্মীয় মতপার্থক্য এবং আচার-অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সংঘাতের জন্ম হয়। একাধিকবার দেখা গেছে, ধর্মীয় শোভাযাত্রা বা অনুষ্ঠান চলাকালীন উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে, যা সাম্প্রদায়িক অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রশাসন বারবার শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানালেও, কিছু ঘটনা ইচ্ছাকৃতভাবে সংঘাতের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়।

ভারতে ধর্মীয় শোভাযাত্রা ও অনুষ্ঠানের প্রচলন বহুদিনের। তবে প্রায়শই এগুলোকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। ধর্মীয় জমায়েতকে ঘিরে সংঘর্ষের ঘটনা নতুন কিছু নয়। বিভিন্ন সময় কিছু দুষ্কৃতী এই জমায়েতগুলিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি করে। কখনও শোভাযাত্রার পথ আটকানো হয়, কখনও হামলা চালানো হয়। এই ধরনের ঘটনাগুলি শুধু ধর্মীয় অশান্তিই নয়, বরং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে ওঠে। সম্প্রতি এমনই এক ঘটনা ঘটেছে বিহারের জামুই জেলায়।

রবিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, জামুই জেলার বালিয়াদিহ গ্রামে হনুমান চালিশা পাঠের আয়োজন করেছিল হিন্দু স্বাভিমান সংগঠন। অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারীরা গাড়িবহর নিয়ে ফিরছিলেন। কিন্তু পথেই ঘটে যায় চাঞ্চল্যকর ঘটনা। অভিযোগ, একদল দুষ্কৃতী আচমকাই তাদের ঘিরে ফেলে এবং পাথরবৃষ্টি শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, দুষ্কৃতীরা গাড়িতে ভাঙচুর চালায়।

আরও পড়ুনঃ সীমান্তে চরম সংঘর্ষ! মাদক উদ্ধার করতে গিয়ে হামলার শিকার বিএসএফ, গাড়ি গুঁড়িয়ে দিল দুষ্কৃতীরা!

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, হামলার সময় গাড়ির জানালা ভেঙে দেওয়া হয় এবং ইট-পাথর ছোঁড়া হয়। ফলে বেশ কয়েকটি গাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হামলায় হিন্দু স্বাভিমান সংগঠনের জেলা সভাপতি নীতীশ কুমার এবং কর্মী খুশবু পান্ডে সহ একাধিক ব্যক্তি আহত হন। সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয় হল, গাড়িতে থাকা মহিলারা এবং শিশুরাও এই হামলার শিকার হন। আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

এই ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জামুইতে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়। প্রশাসন জানিয়েছে, দুষ্কৃতীদের মধ্যে কয়েকজনকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, এই হামলা পূর্বপরিকল্পিত এবং দুষ্কৃতীদের পিছনে আরও বড় চক্রান্ত থাকতে পারে। প্রশাসন আশ্বাস দিয়েছে, দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার করা হবে এবং কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এখন দেখার, তদন্তে নতুন কী তথ্য উঠে আসে এবং দুষ্কৃতীরা আদৌ শাস্তি পায় কি না।

Khabor24x7 Desk

আরও পড়ুন

RELATED Articles