খবর ২৪x৭ ব্যুরো ডেস্কঃ সোমবার বিজেপির নতুন রাজ্য কমিটির ঘোষণা করেছেন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। সেখানে উঠে এসেছে বেশ কিছু নতুন মুখ। না, তারা জনগণের মধ্যে পরিচিত কিন্তু দায়িত্বে নতুন। যেমন ফ্যাশন ডিজাইনার অগ্নিমিত্রা পালকে দেওয়া হয়েছে মহিলা মোর্চার দায়িত্ব। সৌমিত্র খাঁ পেয়েছেন যুব মোর্চার সভাপতির দায়িত্ব। বিধায়ক সব্যসাচী দত্ত হয়েছেন সচিব। প্রাক্তন আইপিএস অফিসার ভারতী ঘোষ পেয়েছেন সহ সভাপতি পদ। জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন। সাধারণত এঁরা প্রত্যেকেই রাজ্য বিজেপিতে মুকুল ঘনিষ্ঠ বলেই জনমানসে পরিচিত। বলা যায় মুকুল রায়ের হাত ধরেই এঁরা বিজেপিতে প্রবেশ করেছিলেন। গতকাল যখন রাজ্য কমিটির নতুন তালিকা ঘোষণা হয় তখন এই মানুষগুলো সেই তালিকায় সবার সদর্পে উপস্থিতি কিন্তু এঁদের ‘গডফাদার’ এর অনুপস্থিতি একটা হালকা বিতর্কের ঝড় তোলে রাজনৈতিক মহলে। কিন্তু বর্তমানে এই নেতা নেত্রীদের সঙ্গে মুকুল রায়ের মাখামাখি এখন অনেকটাই কম। মুকুলের হাত ধরে দলে ঢুকলেও এখন এঁরা দলের বাকি পুরোনো বিজেপি নেতা-নেত্রীদের সঙ্গেই বেশি ঘনিষ্ঠ। সাথে রয়েছে সংঘের সঙ্গে ওঠাবসা।
প্রসঙ্গত, বহুদিন ধরেই মুকুল রায়ের সঙ্গে একাধিক বিষয়ে রাজ্য বিজেপি নেতাদের মতবিরোধ স্পষ্ট। এই কারণেই মুকুল রায় কিছুটা হলেও রাজ্য বিজেপিতে এখন কোণঠাসা। তাহলে তবে কি মুকুল রায় ব্রাত্য থেকে যাবেন বিজেপিতে?
আমাদের সূত্র কিন্তু অন্য কথা বলছে। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে যে মুকুলকে এবার রাজ্য রাজনীতি থেকে কিছুটা সরিয়ে সর্বভারতীয় স্তরে আনতে চাইছে কেন্দ্রের বিজেপি নেতৃত্ব। আপাতত রাজ্যের সমস্ত দায়িত্ব এই নব নির্বাচিত রাজ্য কমিটির নেতা নেত্রীরাই সামলাবেন বলে খবর। তাই দিল্লীর বাসিন্দা মুকুল এবার পা রাখতে চলেছেন দিল্লীতেই। দলের প্রতি তাঁর আনুগত্য ও হার্ডওয়ার্ক দেখে তাঁকে এবার কেন্দ্রের পূর্ণমন্ত্রীত্ব দেওয়ার কথা ভাবছে বিজেপি হাইকম্যান্ড। ঘনিষ্ঠ সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে যে, মহারাষ্ট্র নয়তো উত্তরপ্রদেশ থেকে রাজ্যসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হতে চলেছেন মুকুল রায়। সেখান থেকেই তিনি রাজ্যসভার সদস্য নির্বাচিত হতে চলেছেন বলে খবর। আর তার পরেই তাকে দেওয়া হতে পারে পূর্ণমন্ত্রীর দায়ভার। ২০০৯ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ইউপিএ সরকারের আমলে তিনি কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী ও তারপরে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রীত্বের দায়িত্ব পালন করেছেন। এখনও শোনা যাচ্ছে হয় তিনি ‘যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রক’ বা কয়লামন্ত্রক-এর দায়িত্ব পাবেন নয়তো তিনি পুনরায় জাহাজ মন্ত্রীর পদেই বহাল হতে চলেছেন, তবে এবার প্রতিমন্ত্রী নয় হতে চলেছেন পূর্ণমন্ত্রী। মুকুল রায়ই হয়তো সর্বপ্রথম মোদী সরকারে বাংলার তরফে পূর্ণ মন্ত্রী হতে চলেছেন।
তাই যাঁরা এখন বলছেন রাজ্য বিজেপিতে মুকুল ঝরে গিয়েছেন, তাঁরা হয়তো কিছুদিনের মধ্যেই দেখবেন মুকুল প্রস্ফুটিত হয়ে পূর্ণমন্ত্রী রূপে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভায় সগর্বে বিরাজ করছেন।





