Yashwant Varma : যশবন্ত ভার্মাকে সরাতে সংসদে ইমপিচমেন্ট! বিচারপতির বাড়িতে আগুন,উদ্ধার কোটি টাকার পোড়ানো!

চলতি বছরের মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময়ে রাজধানী দিল্লিতে ঘটে যায় এক রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ড। ঘটনাস্থল, দিল্লি হাইকোর্টের তৎকালীন বিচারপতি যশবন্ত ভার্মার বাড়ি। আগুন নেভানোর পর উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ পোড়া টাকা। নোটের বান্ডিলগুলির বেশিরভাগই ছিল সম্পূর্ণরূপে পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়া, কিন্তু তাতেও বোঝা যাচ্ছিল নগদের অঙ্ক ছিল বিপুল। মুহূর্তে দেশজুড়ে আলোড়ন পড়ে যায়। প্রশ্ন ওঠে—এই টাকা কি হিসাব বহির্ভূত? কীভাবে বিচারপতির বাড়িতে এত নগদ এল?

ঘটনার জেরে সুপ্রিম কোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্নার নির্দেশে একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তিন সদস্যের ওই কমিটি বিচারপতি ভার্মার বিরুদ্ধে ওঠা একাধিক গুরুতর অভিযোগের সত্যতা খুঁজে পায়। যদিও তদন্ত রিপোর্ট হাতে এলেও দীর্ঘদিন ধরে কোনও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। শুধু দিল্লি হাইকোর্ট থেকে সরিয়ে তাঁকে স্থানান্তরিত করা হয় এলাহাবাদ হাইকোর্টে। সরকারের একাংশ তখন থেকেই এই বিষয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করতে শুরু করে।

এই সংবেদনশীল বিষয়ে বারবার মুখ খুলেছেন উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকড়। তাঁর প্রশ্ন, এমন বড়সড় ঘটনায় কেন আজও কোনও এফআইআর দায়ের হয়নি? দেশের বিচারব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে সরকারের সঙ্গে একপ্রকার সংঘাতের আবহ তৈরি হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি বিচারপতিকে পদত্যাগের পরামর্শ দিলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। তাঁর সাফাই, সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন। তা সত্ত্বেও তদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও সুপ্রিম কোর্টের কাছে।

সরকারি সূত্রের খবর, সেই রিপোর্টের উপর ভিত্তি করেই এবার বড়সড় পদক্ষেপ করতে চলেছে কেন্দ্র। আসন্ন বাদল অধিবেশনে সংসদে বিচারপতি যশবন্ত ভার্মার বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব পেশ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে শাসক দল। এমনকি সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু ইতিমধ্যেই বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনাও শুরু করেছেন। লক্ষ্য, প্রস্তাব পাশ করাতে প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড় করা।

আরও পড়ুনঃ China Loan Pressure: ঋণ ফেরাতে টুঁটি চেপে ধরছে চীন! ‘বন্ধু’ পাকিস্তানকেও রেহাই নয়, ২,২০০ কোটি ডলার উদ্ধারে মরিয়া বেজিং!

আইনি নিয়ম অনুযায়ী, ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব পাশ করাতে হলে সংসদের উভয় কক্ষেই প্রস্তাবটি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় গৃহীত হতে হবে। এটি বিচারপতির অপসারণের প্রথম ধাপ। যদি তদন্তে বিচারপতিকে দোষী সাব্যস্ত করা যায়, তবে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হবে প্রস্তাবটি, এবং রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর কার্যকর হবে অপসারণ। অন্যদিকে যদি তিনি দোষী না হন, তবে প্রস্তাব বাতিল হয়ে যাবে। তবে আপাতত দেশের বিচারব্যবস্থার ইতিহাসে এটি হতে চলেছে এক নজিরবিহীন পদক্ষেপ।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles