China Loan Pressure: ঋণ ফেরাতে টুঁটি চেপে ধরছে চীন! ‘বন্ধু’ পাকিস্তানকেও রেহাই নয়, ২,২০০ কোটি ডলার উদ্ধারে মরিয়া বেজিং!

দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের গরিব ও উন্নয়নশীল দেশগুলিকে বিপুল ঋণ দিয়েছিল চিন। সে সময় ‘উন্নয়নের বন্ধু’ রূপে দেখা দিলেও, এবার ঠিক উল্টো ছবিতে সামনে এল বেজিং। আর্থিক মন্দার কবলে পড়ে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের দেশ এবার সেই বকেয়া ঋণ আদায়ে কোমর বেঁধে নামছে। লক্ষ্য একটাই—২০২৫ সালের মধ্যেই প্রায় ২,২০০ কোটি ডলার ফেরত আনা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এত বড় অঙ্কে টাকা ফেরত চাওয়ার এই উদ্যোগ বিশ্ব রাজনীতিতে অস্থিরতা বাড়াতে পারে।

সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার ‘লোই ইনস্টিটিউট’ এক রিপোর্টে জানিয়েছে, অন্তত ৭৫টি গরিব ও ঋণ-সংকটে থাকা দেশের কাছ থেকে এ বছর টাকা তুলতে চাইছে চিন। এসব দেশের অনেকেই ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ (BRI) প্রকল্পে যুক্ত। এই প্রকল্প চালাতে গিয়ে প্রচুর টাকা ঢেলেছে চিন, তবে এখন সেই খরচ ওঠানোই তাদের উদ্দেশ্য। বহু দেশের ক্ষেত্রেই নতুন ঋণ দেওয়া বন্ধ করে পুরনো ঋণ আদায়ে মন দিয়েছে বেজিং। অনেক দেশ আবার এতটাই আর্থিক সংকটে যে, ঋণ শোধ করার মতো অবস্থায়ই নেই।

সিপিইসি-র (CPEC) ‘বন্ধু’ পাকিস্তানও রেহাই পাচ্ছে না
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঋণ আদায়ে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছে চিন-ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী দেশগুলি। পাকিস্তান, লাওস, মায়ানমার, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান-সহ অন্তত ৭টি দেশ এই ঋণজালে এমনভাবে জড়িয়ে গিয়েছে যে তারা আদৌ মুক্ত হতে পারবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ। পাকিস্তানের কথা ধরলেই বোঝা যায় পরিস্থিতির জটিলতা—শুধু ২০২৪ সালেই বেজিং থেকে ২,৯০০ কোটি ডলারের ঋণ পেয়েছে ইসলামাবাদ। অথচ সেই দেশ এখন দেউলিয়ার মুখে।

২০১৩ সালে বিআরআই প্রকল্প শুরু করেছিলেন শি জিনপিং। লক্ষ্য ছিল ইউরোপ, আফ্রিকা ও এশিয়ার মধ্যে নতুন বাণিজ্যিক পথ তৈরি করা। কিন্তু কোভিড মহামারির সময় প্রকল্পগুলির কাজ থমকে যায়। তাতে নতুন করে বিপুল ঋণের বোঝা চাপে চিনের উপরেও। সেই মন্দা ঘোচাতেই এখন পুরনো ঋণ ফেরত পেতে মরিয়া বেজিং। গবেষকরা বলছেন, ২০১৯ সালের পর থেকেই চিন ঋণ সংগ্রাহকের ভূমিকায় নামতে চেয়েছিল। তবে কোভিডের কারণে তা পিছিয়ে যায়। এখন তারা আর দেরি করতে রাজি নয়।

আরও পড়ুনঃ Indian Army’s Power: আকাশে উঠছে রাফাল-সুখোই! গুজরাট সীমান্তে পাকিস্তানের উদ্দেশে শুরু ভারতের ‘শক্তি-প্রদর্শন’

চিন অবশ্য এই অভিযোগ মানতে নারাজ। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র মাও নিং দাবি করেছেন, ‘‘ঋণ দেওয়া ও আদায়ের বিষয়টি আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনেই হচ্ছে। এটি বহু পক্ষীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অধীনে পরিচালিত হয়, সরকারের হস্তক্ষেপ এখানে নেই।’’ কিন্তু অস্ট্রেলীয় গবেষকরা বলছেন, বিআরআই প্রকল্প খোদ শির ভাবনা। সুতরাং ঋণ আদায়ে যদি চাপ সৃষ্টি হয়, তার দায়ও শিকেই নিতে হবে। আর এতেই শুরু হয়েছে বিতর্ক, উত্তপ্ত হচ্ছে বিশ্ব মঞ্চ।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles