Domestic Violence Law Misuse: বধূ নির্যাতনের অভিযোগ কি প্রতিশোধমূলক? হাই কোর্টের চাঞ্চল্যকর পর্যবেক্ষণে সামনে এল নতুন দৃষ্টান্ত!

সমাজে দাম্পত্য জীবনের টানাপোড়েন নতুন কিছু নয়। অনেক সময়ে সেই কলহ আইনি লড়াই পর্যন্ত গড়ায়। কিন্তু সম্প্রতি কলকাতা হাই কোর্ট এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করেছে, যা এই ধরনের মামলার ভবিষ্যৎ দিক নির্দেশ করবে। আদালতের মতে, স্বামী–স্ত্রীর মধ্যে একদিনের ঝগড়া বা কোনও চড়–থাপ্পড়কে কখনওই বধূ নির্যাতন বলে গণ্য করা যায় না।

ঘটনাটি ঘটেছে বর্ধমানে। বিয়ের পর থেকেই ওই দম্পতির মধ্যে নানা কারণে অশান্তি চলছিল। ২০২২ সালের ৭ জুলাই স্ত্রী অভিযোগ করেন, স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকেরা তাঁকে মারধর করে এবং গয়না–টাকা আটকে দিয়ে বাড়ি থেকে বার করে দেন। এর ভিত্তিতে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। তবে সেই অভিযোগ খারিজের আবেদন নিয়ে হাইকোর্টে আসেন স্বামী।

স্বামী আদালতে জানান, তাঁর স্ত্রী বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে ২০১৯ সালেই গয়না–টাকা নিয়ে প্রেমিকের সঙ্গে বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। সেই সময় তিনি পুলিশের কাছেও অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। ২০২১ সালে স্ত্রী একটি নতুন মামলা করলেও সেখানে বধূ নির্যাতনের ধারা ছিল না। কিন্তু ২০২২ সালে আবার নতুন করে নির্যাতনের অভিযোগ তোলা হয়, যা স্বামীর দাবি অনুযায়ী প্রতিহিংসা থেকেই করা হয়েছিল।

বৃহস্পতিবার বিচারপতি অজয় কুমার মুখোপাধ্যায় জানান, এক দিনের ঝগড়া বা সামান্য মারধরকে ‘নিষ্ঠুরতা’ হিসেবে দেখা যায় না। আদালতের বক্তব্য অনুযায়ী, স্ত্রী প্রতিশোধমূলক মানসিকতা থেকেই আইনের অপব্যবহার করেছেন। হাইকোর্ট জানায়, এফআইআর ও পুলিশের চার্জশিটে কোনও অপরাধের প্রমাণ মেলেনি।

আরও পড়ুনঃ Weather: ঘূর্ণাবর্তে অস্থির আকাশ, একাধিক জেলায় কমলা সতর্কতা জারি! কত দিন বৃষ্টি চলবে দক্ষিণবঙ্গে?

ফলে আদালত এফআইআর খারিজের নির্দেশ দেয় এবং স্বামী ও শ্বশুরবাড়িকে স্বস্তি দেয়। একইসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী রায়ের উল্লেখ করে হাইকোর্ট সতর্কবার্তা দেয়—স্বামী ও তাঁর পরিবারকে হয়রানি করার জন্য বধূ নির্যাতনের আইন ব্যবহার করা উচিত নয়। বিচারপতির মন্তব্য, আদালতকে এই ধরণের মামলায় বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে যাতে প্রকৃত অপরাধ ও প্রতিশোধমূলক অভিযোগের মধ্যে পার্থক্য করা যায়।

RELATED Articles