শহরের রাস্তায় পথকুকুরদের খাওয়ানো নিয়ে একদিকে যেমন সামাজিক টানাপোড়েন তৈরি হয়, অন্যদিকে তাদের নিরাপত্তা নিয়েও নানা প্রশ্ন ওঠে। অনেক সময় খাবার দিতে গিয়ে ঝামেলায় জড়ান পশুপ্রেমীরা। আবার কারও কারও অভিযোগ, রাস্তার ধারে খাওয়ানো হলে চলাফেরায় অসুবিধা হয়, চারপাশ নোংরা হয়ে যায়। তাই এই বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছিল।
এই পরিস্থিতিতে নতুনভাবে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে দিনের নির্দিষ্ট দুটি সময়েই কুকুরদের খাওয়ানো যাবে— সকাল ৭টা এবং সন্ধে ৭টা। তবে খাওয়ানো হবে না এলোমেলো ভাবে, বরং কিছু নির্দিষ্ট জায়গায়। এর ফলে একদিকে পথকুকুররা ঠিকমতো খাবার পাবে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের চলাফেরা বা বাচ্চাদের খেলাধুলার জায়গা দখল হবে না।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে তৈরি হয়েছে খাবারের তালিকা। ভাত, রুটি, আলুসেদ্ধ সামান্য তেল বা ঘি মাখিয়ে, কিংবা মাছ, মাংস বা মুরগির ছাঁট দিয়ে রান্না করা হালকা খাবার দেওয়া যাবে কুকুরদের। তবে কিছু জিনিস দেওয়া যাবে না— যেমন মিষ্টি, পেঁয়াজ, রসুন, দুধজাত খাবার বা ফল। কারণ এগুলো তাদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
খাবার দেওয়ার পাশাপাশি নজর দিতে হবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকেও। খাওয়ানো শেষে সেই জায়গা পরিষ্কার করে দিতে হবে। না হলে রাস্তা ও ফুটপাথ নোংরা হয়ে মানুষের অসুবিধা বাড়বে। আর কেউ যদি নির্দিষ্ট জায়গার বাইরে কুকুরদের খাওয়ান, সেক্ষেত্রে তাঁর বিরুদ্ধে নেওয়া হতে পারে আইনি পদক্ষেপও।
আরও পড়ুনঃ Domestic Violence Law Misuse: বধূ নির্যাতনের অভিযোগ কি প্রতিশোধমূলক? হাই কোর্টের চাঞ্চল্যকর পর্যবেক্ষণে সামনে এল নতুন দৃষ্টান্ত!
মোট ৯২টি জায়গা চিহ্নিত করা হয়েছে যেখানে এই নিয়ম মেনে কুকুরদের খাওয়ানো যাবে। পশুপ্রেমীদের মতে, এর ফলে আর ঝামেলায় পড়তে হবে না এবং কুকুরদেরও সুরক্ষা মিলবে। স্থানীয় বাসিন্দাদেরও আশা, নিয়ম মানলে রাস্তার জায়গা দখল হবে না এবং সমস্যা কমবে। এই নির্দেশিকা আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করছে দমদম পুরসভা।





