সম্প্রতি ঘটেছে এক ঐতিহাসিক ঘটনা। ৫০০ বছর পর নিজের জন্মভূমিতে ফিরেছেন রামচন্দ্র। উদ্বোধন হয়েছে অযোধ্যার রামমন্দিরের। আর এরই মধ্যে এবার দীর্ঘ ৩১ বছর পর জ্ঞানব্যাপী মসজিদে শোনা গেল ঘণ্টার শব্দ, হল মঙ্গলারতি। আদালতের নির্দেশেই খুলে গেল জ্ঞানব্যাপী মসজিদের বেসমেন্ট। পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের উপস্থিতিতেই সেই বেসমেন্টে চলল পূজা অর্চনা।
গতকাল, বুধবারই আদালতের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে জ্ঞানব্যাপী মসজিদের নীচের তলা অর্থাৎ বেসমেন্টে পুজো করতে পারবেন হিন্দুরা। সেই নির্দেশের পরই সন্ধ্যা থেকেই নানান প্রস্তুতি দেখা যায় জ্ঞানব্যাপী মসজিদের বাইরে। রাত ১০টা নাগাদ সেখানে যান বারাণসীর জেলাশাসক ও ডিআইজি। বেসমেন্ট চত্বর থেকে সরানো হয় ব্যারিকেড। কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা হাতে না ঘটে, সেই জন্য বেশ সতর্কতা অবলম্বন করে উত্তরপ্রদেশের পুলিশ।
রাত ১টা নাগাদ মসজিদে পৌঁছন হিন্দু পক্ষের মামলাকারীরা। বেসমেন্টে অর্থাৎ মন্দিরের তেহখানায় প্রবেশ করেন কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরের পূজারী, জেলাশাসক, পুলিশ কমিশনার-সহ মোট পাঁচজন। মধ্যরাতে শুরু হয় পুজো। কাশী বিশ্বনাথ ট্রাস্টের তরফে ওম প্রকাশ মিশ্র নামে এক পুরোহিতকে পুজোর দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এদিন জ্ঞানব্যাপী মসজিদের নীচে তেহখানায় পুজো দেওয়ার পর বেরিয়ে হিন্দু পক্ষের মামলকারী সোহন লাল আর্য ও লক্ষ্মী দেবী বলেন, “আমরা তেহখানায় অবস্থিত ব্যাসজির দর্শন করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু পুলিশ সেই অনুমতি দেয়নি। আশা করছি শীঘ্রই সাধারণ হিন্দু ভক্তদেরও পুজো করার অনুমতি দেওয়া হবে”।
প্রসঙ্গত, ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত এই জ্ঞানব্যাপী মসজিদের বেসমেন্টে পুজো হত। কিন্তু বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মুলায়ম সিং সরকার সাম্প্রদায়িক অশান্তির কারণে পুজোর অনুমতি বাতিল করে দেন। তবে বেসমেন্টে পুজোর অনুমতি চেয়ে জেলা আদালতে এতদিন চলছিল মামলা। অবশেষে ৩১ বছর পর জ্ঞানব্যাপী মসজিদে তেহখানাতে মিলল হিন্দুদের পুজো করার অনুমতি।
উল্লেখ্য, এই জ্ঞানব্যাপী মসজিদ নিয়ে আরও একটি মামলা চলছে। আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার তরফে এই মসজিদে সমীক্ষা চালিয়ে একটি রিপোর্ট পেশ করা হয়েছে আদালতে। সেই রিপোর্টে দাবী করা হয়েছে, এই জ্ঞানব্যাপী মসজিদের নীচ থেকে হিন্দু মন্দির থাকার অস্তিত্বের প্রমাণ মিলেছে। এই মসজিদের ওজুখানা চত্বরে অসম্পূর্ণ শিবলিঙ্গের অস্তিত্বও পাওয়া গিয়েছে। সেই সঙ্গেই হনুমান, বিষ্ণু, নান্দীর মূর্তিও রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে ওই রিপোর্টে। মধ্যযুগীয় দেবদেবীর মূর্তি ও ভাস্কর্যও রয়েছে সেখানে। অর্ধেক হনুমান ও অর্ধেক সাপের দৈব ভাস্কর্যও সেখানে মিলেছে। হিন্দুপক্ষের তরফে আদালতে দাবী করা হয়েছে, ঔরঙ্গজেব ওই মসজিদ বানিয়েছিলেন। সেখানে মন্দিরের অংশ হিন্দুদের ফিরিয়ে দেওয়ার দাবী জানায় হিন্দু পক্ষ।





