ইচ্ছেমতো নয়, ফের লকডাউন জারি করলে দেশকে আগে থেকে জানাতে হবে, কেন্দ্রকে নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের!  

২০২০ শেষের দোরগোড়ায়। এই বছরে যা ঘটে গেছে তার  বিগত কয়েক দশকে‌ও হয়তো ঘটেনি।

এই বছর সাক্ষী থেকেছে মহামারীর। দেখেছে মৃত্যু-মিছিল। মহামারীর জেরে হাওয়া লকডাউনে পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফেরার কষ্ট। করোনা রোধে হঠাৎ হ‌ওয়া লকডাউনে বেজায় মুশকিলে পড়েছিল দেশবাসী।

আর তাই শুক্রবার কেন্দ্রকে কড়া নির্দেশ পাঠালো সুপ্রিম কোর্ট। জানানো হলো দেশে

ফের লকডাউন জারি করলে আগে থেকে দেশবাসীকে অবগত করতে হবে। মানুষের জীবনযাত্রা যাতে সমস্যায় না পড়ে তা নিশ্চিত করতে হবে কেন্দ্রকে।

বিচারপতি অশোক ভূষণ, সুভাষ রেড্ডি এবং এমআর শাহের বেঞ্চ এদিন জানিয়েছে, ছোট কনটেইনমেন্ট জোন বা যেসব অঞ্চলে সংক্রমণের হার বাড়ছে সেই সব অঞ্চলে লকডাউন জারি করা বা সিল করা উচিত। তাতে সংক্রমণের এই চেন ভেঙে যাবে।

দেশের সর্বোচ্চ আদালত এদিন ঘোষণায় বলে, হোটেল, ফুড কোর্ট, বাজার, বাস স্ট্যান্ড, রেলওয়ে স্টেশনে ভিড় বাড়ছে। ভিড় রুখতে আরও বেশি সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করতে হবে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে। সপ্তাহের শেষে বা রাতে কার্ফু জারি করা যেতে পারে। যেসব অঞ্চল সিল করা হবে সেসব অঞ্চলে অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবা ছাড়া বন্ধ থাকতে হবে সব কিছু। তবে লকডাউন বা কার্ফু জারি করলে বা সিল করলে আগে থেকে জানাতে হবে সাধারণ মানুষকে। সাফ জানিয়ে দিয়েছে শীর্ষ আদালত। যাতে দেশের নাগরিকদের জীবন যাত্রার উপর কোনও প্রভাব না পড়ে।

একইসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের তরফে নির্দেশ জারি করা হয়েছে কতজন অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন তা দেখতে হবে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া স্থানীয় প্রশাসন কোনও জমায়েতের অনুমতি দেবে না। কোথাও জমায়েতের অনুমতি দেওয়া হলে স্থানীয় প্রশাসনকে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত বিধি নিষেধের তালিকা তৈরি করে দিতে হবে।

চিকিৎসক, নার্স সহ স্বাস্থ্য কর্মীদের অবিরাম কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেছে আদালত। কোর্ট বলেছে, চিকিৎসক, নার্স সহ স্বাস্থ্য কর্মীরা গত ৮ মাস ধরে টানা কাজ করে যাচ্ছেন। মানসিক এবং শারীরিকভাবে তাঁরা বিধ্বস্ত। তাঁদের কাজের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে। রাজনৈতিক সভার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের নির্দিষ্ট গাইডলাইন মানতে হবে রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে। আদালত বলেছে, মাস্ক পরা, সামাজিক দূরত্ব মানা নিয়ে যে গাইডলাইন আছে, তা মানার জন্য সাধারণ মানুষকে সাহায্য করতে হবে।

RELATED Articles