জম্মু-কাশ্মীর—নামটা শুনলেই একদিকে চোখে ভেসে ওঠে তুষারে মোড়া পর্বতের ছবি, আর অন্যদিকে আতঙ্ক ছড়ানো গোলাগুলির আওয়াজ। গত কয়েক বছর ধরেই উপত্যকার সাধারণ মানুষের মনে একরাশ ভয়। কখন কোথায় জঙ্গি হানা হবে, কার ঘরে ঢুকে পড়বে মৃত্যুর ছায়া, কেউ জানে না। এর মাঝেই হিন্দু পণ্ডিতদের ওপর একের পর এক আক্রমণ ফের প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে—কাশ্মীর কি এখনও সবার?
প্রতিদিন সকালে স্কুলে যাওয়া বাচ্চা, অফিসমুখো যুবক বা বাড়ির ছাদে বসে থাকা বৃদ্ধ—সবার মনে শুধু একটাই প্রশ্ন, “আজ কাকে টার্গেট করা হবে?” ২২ এপ্রিলের ভয়াবহ হামলার রেশ এখনও উপত্যকাবাসীর গায়ে লেগে আছে। শহরের অলিগলি জুড়ে চলছে তল্লাশি, সেনার টহল, আর মাঝেমধ্যেই ভেসে আসছে বিস্ফোরণের গর্জন। এই আতঙ্কের মধ্যেই এবার কড়া পদক্ষেপ নিল ভারতীয় সেনাবাহিনী।
২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে সংঘটিত জঙ্গি হানায় যুক্ত ছিল চারজন আততায়ী। তাদের মধ্যে দুইজন স্থানীয়—আদিল গুরে ও আসিফ শেখ। দুজনেই কুখ্যাত লস্কর-ই-তৈবার সদস্য। সূত্র অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাতে জম্মু-কাশ্মীরের ত্রালের আসিফ শেখের বাড়িতে তল্লাশি চালায় সেনাবাহিনী। প্রথমে মনে হয়েছিল, বাড়িটি খালি। কিন্তু পরে সেনার সন্দেহ হয় যে বাড়ির ভিতর বিস্ফোরক লুকোনো রয়েছে। সেনাবাহিনী সময় নষ্ট না করে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে আসতেই হঠাৎ ঘটে বিস্ফোরণ।
আসিফ শেখের বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায় সেই বিস্ফোরণে। সেনার সন্দেহ আরও বেড়ে যায় যে এর পেছনে পরিকল্পিত ফাঁদ ছিল। তারপরই সেনা ও প্রশাসন সিদ্ধান্ত নেয়—যেসব বাড়ি জঙ্গি কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হচ্ছে, সেগুলোকে টার্গেট করা হবে। এরপর দক্ষিণ কাশ্মীরের বিজবেরা অঞ্চলের লস্কর-ই-তৈবার আরেক জঙ্গি আদিল ঠোকারের বাড়িও বিস্ফোরণ ঘটিয়ে উড়িয়ে দেওয়া হয়। পহেলগাঁওয়ের বৈসরণ হামলায় তাঁর যুক্ত থাকার প্রমাণ পাওয়ার পরই এই পদক্ষেপ নেয় প্রশাসন।
আরও পড়ুনঃ Weather update : তীব্র গরমে নাজেহাল, বৃষ্টির অপেক্ষায় রাজ্যবাসী! কি বলছে আবহাওয়া দফতর?
সেনার এই পদক্ষেপে উপত্যকার বহু মানুষের মনে কিছুটা হলেও সাহস ফিরেছে। প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে—জঙ্গিদের আশ্রয়দাতাদের কোনও রেহাই নেই। যারা দেশবিরোধী কার্যকলাপে যুক্ত, বা সন্ত্রাস ছড়াতে সাহায্য করছে, তাদের বিরুদ্ধে এমন আরও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একদিকে হিন্দুদের নিশানা বানানো, আর অন্যদিকে পরিকল্পিত বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সেনাদের মারার ছক—সবই এবার প্রশাসনের নজরে এসেছে। এই ধ্বংস যেন শুধু বাড়ির নয়, এক ভয়ানক বার্তার বহিঃপ্রকাশ।





