প্রচণ্ড গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা দক্ষিণবঙ্গবাসীর। সকাল থেকে রাত—একটানা তাপমাত্রার চাপে বিপর্যস্ত জনজীবন। কর্মস্থলে যাওয়া থেকে শুরু করে দৈনন্দিন কাজ—সবই যেন চরম ক্লান্তিকর হয়ে উঠেছে। অফিসপাড়া হোক বা হাট-বাজার, অল্প সময়েই শরীর ঘেমে একেবারে অস্থির হয়ে উঠছে। যাতায়াতের পথে ছাতা, পানীয় জল, সানগ্লাস, তোয়ালে—এসব যেন এখন বাধ্যতামূলক সঙ্গী।
শুধু গরম নয়, তার সঙ্গে আদ্রতার মাত্রাও যেন অসহ্য পর্যায়ে পৌঁছেছে। সকালবেলা খানিকটা মেঘলা থাকলেও, দুপুর গড়াতেই রোদের দাপট চরমে। বাতাসে জলীয় বাষ্প থাকায় সেই গরম যেন আরও বেশি কষ্টকর হয়ে উঠছে। বাড়ির মধ্যে বসেই গায়ে জল পড়ছে, ঘাম শুকাতে না শুকাতেই ফের ঘেমে উঠছে শরীর। এ অবস্থায় সকলের মনে এখন একটাই প্রশ্ন—এই গরম থেকে কি আদৌ মিলবে মুক্তি?
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, আজ, শুক্রবার রাজ্যের পশ্চিম অংশে তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি হয়েছে। বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামে তাপপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে। এই ছয় জেলায় চরম গরম অনুভূত হচ্ছে, যার মধ্যে চারটিতে লাল সতর্কতা (Red alert) জারি হয়েছে। শুধু তাই নয়, মালদহ, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরেও বজায় থাকবে তীব্র গরম এবং অস্বস্তিকর পরিবেশ। একাধিক জেলার তাপমাত্রা ইতিমধ্যেই ৩৭ ডিগ্রি ছুঁয়ে ফেলেছে।
কলকাতায় শুক্রবারের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৮.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের তুলনায় ২.৬ ডিগ্রি বেশি। আপেক্ষিক আর্দ্রতা সর্বোচ্চ ৮৭ শতাংশে পৌঁছেছে। ফলে গরমের পাশাপাশি আর্দ্রতার অস্বস্তি দ্বিগুণ বেড়েছে। শহরের মানুষ স্বস্তির আশায় তাকিয়ে আছে এক পশলা বৃষ্টির দিকে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস বলছে, শনিবার থেকেই পশ্চিমের কিছু জেলায় ঝোড়ো হাওয়া ও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে। তবে তা ছড়িয়ে পড়বে ধীরে ধীরে।
আরও পড়ুনঃ Astrology : গ্রহের অদ্ভুত সংযোগে ভাগ্য ফিরবে ৪ রাশির! আপনি কি সেই তালিকায় আছেন?
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, রবিবার থেকে দক্ষিণবঙ্গে ঝড়-বৃষ্টি হতে পারে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ। এই বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকবে বুধবার পর্যন্ত। কলকাতাতেও রবিবার থেকে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে এবং ঝড়-বৃষ্টি দেখা দিতে পারে। উত্তরবঙ্গের সমস্ত জেলাতেও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। ফলে সপ্তাহের শেষে মিলতে পারে কাঙ্ক্ষিত স্বস্তি। যদিও তার আগে দক্ষিণবঙ্গবাসীকে সহ্য করতে হবে আরও কয়েকদিনের তীব্র গরম এবং আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি।





