দেশজুড়ে হাহাকার অবস্থা। কোনওমতেই সামাল দেওয়া যাচ্ছে না পরিস্থিতি। গোটা দেশে নিজের জাল বিস্তার করেছে করোনা। সুনামির মতো আছড়ে পড়েছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। কোথাও বেডের ঘাটতি, তো কোথাও অক্সিজেনের অভাব। কোথাও আবার জায়গা মিলছে না শ্মশানে পর্যন্ত।
এই অবস্থায় রক্ষাকর্তা হয়ে পাশে দাঁড়াল ভারতীয় সেনাই। দিল্লি ক্যান্টনমেন্টে তাদের ৩৫০ বেডের সেনা হাসপাতাল ছিল। এবার সেটাকেই ১০০০ বেডের কোভিড হাসপাতালে পরিণত করলেন তারা। আর এক সপ্তাহের মধ্যেই চালু হয়ে যাবে এই হাসপাতাল। দেশের এই চরম বিপর্যয়ের সময় ভারতীয় সেনার এই পদক্ষেপকে কুর্নিশ জানিয়েছে গোটা দেশ।
আরও পড়ুন- অন্তঃসত্ত্বা অবস্থাতেও নিজের কর্তব্যে অনড়, পথচারীদের করোনার বিধি মেনে চলার আর্জি ছত্রিশগড়ের ডিএসপির
দিল্লি সেনার মুখপাত্র কর্নেল আমন আনন্দ জানান, হাসপাতালে অক্সিজেন পরিকাঠামো বাড়ানোর কাজও চলছে। ইতিমধ্যেই, আকাশ পথে জার্মানি থেকে ২৩টি মোবাইল অক্সিজেন উৎপাদন প্লান্ট আনা হয়েছে। এছাড়াও, আরও অক্সিজেনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে।
করোনা সংক্রমনের দ্বিতীয় ঢেউ প্রথমে সবচেয়ে বেশি আছড়ে পড়েছিল মহারাষ্ট্রে। কিন্তু কয়েকদিন পর থেকেই দিল্লিতেও পরিস্থিতি খারাপ হতে থাকে। ভয়ংকর আকার ধারণ করেছে এই ভাইরাস। দিল্লিতে দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছেছে ২৫ হাজারে, এর হেরে আক্রান্তের হার এসে দাঁড়িয়েছে ৩৬.২৪ শতাংশে।
দিল্লির হাসপাতালগুলির বাইরে ভিড় ঠেকানো যাচ্ছে না। করোনা রোগীদের লম্বা লাইন। সকলেরই আর্জি চিকিৎসার। এরই মধ্যে একের পর এক হাসপাতালে অক্সিজেন শেষ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়ানক রূপ পেয়েছে। বেডের ঘাটতি তো আগের থেকেই ছিল। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরাও একের পর এক আক্রান্ত হচ্ছেন। সব মিলিয়ে এক ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে গোটা দেশে।
আরও পড়ুন- ভোট ষষ্ঠীর বড় উপহার মমতার, বিনামূল্যে টিকা পাবে রাজ্যের মানুষ
ক্রমশ অক্সিজেন ফুরিয়ে আসায় সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলি সরকারকে সেকথা জানাতে শুরু করে গতকাল থেকেই। অবশেষে অক্সিজেনের এই অভাব মেটানোর জন্য বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই অবস্থায় ভারতীয় সেনাদের ১০০০ বেডের কোভিড হাসপাতাল সত্যিই প্রশংসনীয়।





