সম্প্রতি ভারতের উত্তরাখণ্ডের তিনটি জায়গা নিজেদের ম্যাপে স্থান দিয়ে নতুন মানচিত্র প্রকাশ করেছে নেপাল সরকার। যদিও এর জেরে নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলিকে যথেষ্ট বেগ পেতে হচ্ছে। কিন্তু এই ডামাডোলের আবহের মধ্যেই জমি জরিপের কাজে নামল দুই দেশের যৌথ প্রতিনিধি দল। সীমান্ত সংলগ্ন বিহারের পূর্ব চম্পারণ জেলার ঢাকা ব্লকে বৃহস্পতি ও শুক্রবার চলল জমি জরিপের কাজ।
বিভাগীয় আধিকারিকদের থেকে জানা গিয়েছে যে, দেরাদুন থেকে দুই সদস্যের একটি ভারতীয় দল এসেছে। এই দল নেপালের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যৌথভাবে বলুওয়া গুয়াবাড়ি পঞ্চায়েতের অধীনে থাকা বলুওয়া গ্রামে দুই দিন ধরে জমি জরিপ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করেছেন। আগামী ১০ দিনের মধ্যে তারা রিপোর্ট জমা দেবেন। বিহারের পূর্ব চম্পারণের জেলাশাসক শিরসাত কপিল অশোক জানিয়েছেন যে তাদের জমা দেওয়া রিপোর্টে ভারত-নেপাল সীমান্ত সংক্রান্ত বেশ কিছু সমস্যার সমাধান হতে পারে।
গত মাসে পূর্ব চম্পারণ জেলার ঢাকা ব্লকে লাল বাকেয়া নদীর তীর বরাবর বাঁধ গড়ে তোলার সময় নেপাল আপত্তি জানায়। বিপাকে পড়ে ভারত। লাল বাকেয়া নদীর বাঁধ মেরামত না হলে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিতে পারে গুবারি, বলুওয়া, ভবানীপুর, হীরাপুর, মহুওয়াহা, ফুলওয়ারিয়া প্রভৃতি গ্রামগুলিতে। নেপালের পাহাড় থেকে শুরু করে সীমান্ত পেরিয়ে বিহারের বলুওয়া ব্লকের মধ্যে দিয়ে বয়ে গিয়ে শেষে বাগমতী নদীতে মিশেছে লাল বাকেয়া নদী। বছরের অন্যান্য সময় সেরকম জল না থাকলেও বর্ষাকালে এই নদীর জলে পরিপূর্ণ হয়ে ফুলে ফেঁপে উঠে ভয়াল রূপ নেয়। তাই এই বাঁধ মেরামত না করলে সমস্যায় পড়বেন সীমান্ত অঞ্চলের ভারতের দিকের গ্রামবাসীরা।
নেপালের থেকে বাঁধা পাওয়ার পর সেই অঞ্চলের জেলাশাসক জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার সাহায্য চান। স্থগিত রাখা হয় লাল বাকেয়া নদীতীরের পিলার নম্বর ৩৪৬/৫ থেকে ৩৪৬/৭ পর্যন্ত বাঁধের নির্মাণকাজ। এই সমস্যার সমাধান করতে দুই দেশের প্রতিনিধিদের হস্তক্ষেপ করতে বলা হয়। তারপরেই জমি জরিপের কাজ শুরু করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। তাঁদের জমা দেওয়া রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানা গিয়েছে।





