যখন রক্ষকই ভক্ষক হয়ে দাঁড়ায় তখন অবস্থা সঙ্গীন হয়ে যায়। সরকারি লোকজনকে ত্রাতার বদলে এখন ত্রাস মনে করে সাধারণ মানুষ। মধ্যপ্রদেশের বছর ১৪-র এক কিশোর তো অন্তত তাই মনে করছে এখন।
করোনার সময়ে রোজগার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন অনেকেই বিভিন্ন রকম জিনিসপত্র বেচতে শুরু করেছেন। সেরকমই ইন্দোরের এক কিশোর ডিমের ঠেলা নিয়ে বসতে চেয়েছিল রাস্তায়। কিন্তু বাদ সাধল পুরসভার লোকজন। একশো টাকা ঘুষ দিতে হবে তবেই বসা যাবে, দাবি পুরকর্মীদের। কিন্তু করোনার আবহে এমনিতেই বড় কষ্টে মূলধন জোগাড় করে ডিমগুলো কিনে বেচতে বসেছিল বছর ১৪-র ছেলেটি। এখন ঘুষ দিলে তার হাতে তো কিছুই থাকবে না সেরকম। কিন্তু পুরসভার লোকজন সেসব শুনবেন কেন?
এরপরই উঠেছে মারাত্মক অভিযোগ। ঘুষ দিতে না চাওয়ায় পুরসভার লোকজন কিশোরটির ঠেলাগাড়িই উল্টে ফেলে দিয়েছে। রাস্তায় পড়ে ফেটে ছত্রাকার হয়ে গিয়েছে ডিমের খোলা আর চটচটে কুসুম। বছর ১৪-র ওই কিশোর চোখের সামনে অসহায় ভাবে দেখল তার স্বপ্নকে ভেঙে যেতে। ঘটনাটির ভিডিও ভাইরাল হতে তোলপাড় পড়ে গিয়েছে নেট দুনিয়ায়। সাদা জামা প্যান্ট পরা ওই কিশোরের অসহায় রাগ অভিমান মাখা চেহারা যখন দেখা যাচ্ছে ভিডিওতে তখন নিজেদের ক্ষোভ আটকে রাখতে পারছেন না কেউই। এই ঘটনার জন্য যে দুই ব্যক্তির দিকে আঙ্গুল তুলে সে দোষারোপ করছে, জানা গিয়েছে তারা পুরকর্মী।
https://twitter.com/IndoreWaleBhiya/status/1286188669909565442
করোনা সংক্রমণ রোধে নিরাপদ দূরত্ব বিধি রক্ষায় বাজার এলাকায় ‘ডান-বাম নীতি চালু করেছে মধ্যপ্রদেশ সরকার। অর্থাৎ আজকে যদি পথের এক পাশের দোকান খোলা থাকে তবে কালকে পথের উল্টোদিকে দোকান খোলা থাকবে। যদিও বিরোধীরা অভিযোগ করছে এই নীতি আসলে তেমন কার্যকর হচ্ছে না উল্টে ছোট ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে এই নীতির ফলে। কারণ ছোট ব্যবসায়ীদের হেনস্থা তো চলছেই।
ভারতের বিভিন্ন জায়গাতে করোনার কারণে রোজগার বন্ধ হওয়ায় ডিম, শাকসবজি, ফলমূল ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে রাস্তায় বিভিন্ন জায়গায় বসছেন অসহায় মানুষরা। সেখানে সরকার যদি তাদের সঙ্গে এরকম করে তাহলে তো বাঁচাই মুশকিল হয়ে যাবে।





