আদালতের ভিতরেই হামলা আততায়ীদের। আজ, শুক্রবার দিল্লির রোহিণী আদালতে এক মামলার শুনানি চলাকালীনই গুলি চালায় একদল আততায়ী। এলোপাথাড়ি এই গুলিতে মৃত্যু হয় গ্যাংস্টার জিতেন্দ্র গোগি-সহ অন্তত দুজনের। এদিকে পুলিশের গুলিতে শেষ দুই আততায়ী।
সূত্রের খবর, শুক্রবার দুপুরে উত্তর দিল্লির রোহিণী আদালতে কুখ্যাত গ্যাংস্টার জিতেন্দ্র গোগিকে এজলাসে আনা হয়। তাঁকে কাঠগড়ায় তুলতেই শুরু হয় গুলিগালা। এর জেরে জিতেন্দ্রর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশকর্মীরা গুলিবিদ্ধ হয়। ওই গ্যাংস্টার-সহ ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয় তিনজনের।
আদালতে প্রবেশ করার জন্য কড়া নিরাপত্তার পেরোতে হয়। কিন্তু পুলিশের নজর এড়িয়ে আততায়ীরা অস্ত্র নিয়ে কীভাবে আদালতের ভিতরে ঢুকল, এ নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। তবে মনে করা হচ্ছে, জিতেন্দ্র গোগি-র প্রতিপক্ষ দলই এই হামলার করেছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, আততায়ীরা আইনজীবীদের পোশাকে পরে আদালতে ঢোকে। গোগীকে আদালতের ২০৬ নম্বর রুমে এনে এজলাসে তুলতেই শুরু হয় গুলিগোলা। পাল্টা গুলি চালায় পুলিশও। পুলিশের গুলিতে দুই দুষ্কৃতীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এক মহিলা আইনজীবী আহত হয়েছেন বলেও খবর।
জিতেন্দ্র গোগী মূলত দিল্লির বাইরে পানিপথ ও হরিয়ানা-সংলগ্ন এলাকায় নানা সমাজবিরোধী কার্যকলাপ চালাতেন। তাঁর বিরুদ্ধে প্রায় ১৯টি খুন ও খুনের চেষ্টার অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে তিহার জেলে বন্দি ছিলেন তিনি। তাদের সবথেকে বড় প্রতিপক্ষ টিল্লু তাজপুরিয়ার গ্যাং। এই গ্যাং-ই হামলা চালিয়েছেন বলে জানিয়েছেন দিল্লি পুলিশের কমিশনার রাকেশ আস্থানা।
জিতেন্দ্র গোগির নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেলের পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, আততায়ীর গুলিতে দুই পুলিশ কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। গুলি চলেছে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ রাউন্ড।
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়য়ে টপার ছিলেন জিতেন্দ্র ও কুলদীপ ফাজা। পরে সমাজবিরোধী কাজে জড়িয়ে পড়েন তারা। দিল্লির বাইরে ধীরে ধীরে নিজেদের দল তৈরি করেন। প্রায় ৫০ জন ছিল তাদের দলে। বেশ কয়েকবছর ধরেই গোগিএ খুঁজছে পুলিশ।
বছর দুই আগে গুরুগ্রাম থেকে গ্রেফতার হন গোগি ও তাঁর সহকারী কুলদীপ ফাজা। তাদের তিহার জেলে রাখা হয়েছিল। কিন্তু গত ২৫শে মার্চ পুলিশ হেফাজত থেকে পালায় কুলদীপ।





