ঝাড়খণ্ড রাজ্যের উন্নয়ন কি অর্থের টানাপোড়েনে থমকে যাবে? এমনই এক জ্বলন্ত প্রশ্ন উঠে এসেছে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের সাম্প্রতিক চিঠিকে কেন্দ্র করে। উন্নয়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে রাজ্যের ১৩,৩০০ কোটি টাকার বিশাল বকেয়া। আর সেই অঙ্ক মকুবেরই অনুরোধ জানিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চিঠি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। চিঠিতে হেমন্ত স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই বিপুল অর্থ রাজ্য সরকারকে দিতে বাধ্য করলে রাজ্যের পরিকাঠামোগত উন্নয়ন থমকে যাবে।
মাওবাদী-অধ্যুষিত এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী সিআরপিএফ মোতায়েন করা হয়েছে বহু বছর ধরে। কিন্তু এই বাহিনী মোতায়েনের খরচ অনেকটাই রাজ্য সরকারকে বহন করতে হয়। ঝাড়খণ্ড সরকারের দাবি, এই খরচ বাবদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে তাদের প্রাপ্য রয়েছে ১৩,৩০০ কোটি টাকা। যা এখনও পর্যন্ত মেটানো হয়নি। এই বিপুল অঙ্কের অর্থ ফেরত না পেলে রাজ্যের চলমান ও পরিকল্পিত বহু প্রকল্পে টান পড়বে বলেই আশঙ্কা হেমন্ত সোরেনের।
চিঠিতে হেমন্ত আরও লেখেন, “মাওবাদী সমস্যা দূরীকরণ রাজ্য ও কেন্দ্রের যৌথ দায়িত্ব। একতরফাভাবে রাজ্যকে চাপিয়ে দিলে তা যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর পরিপন্থী।” রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর মতে, উন্নয়ন ও নিরাপত্তার ভারসাম্য বজায় রাখতে গেলে এই অর্থনৈতিক বোঝা মকুব করতেই হবে। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, মাওবাদী নিধনে রাজ্য পুলিশের ৪০০-রও বেশি সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন, যা প্রমাণ করে ঝাড়খণ্ড কতটা সক্রিয়ভাবে এই জঙ্গি সমস্যা মোকাবিলা করছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দফতর ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে, আগামী বছরের মার্চের মধ্যে দেশকে ‘মাওবাদী মুক্ত’ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। সেই লক্ষ্যে ঝাড়খণ্ড সহ ছত্তীসগঢ়, তেলঙ্গানা, বিহার, ওড়িশায় যৌথবাহিনী তৎপর। বিশেষত ঝাড়খণ্ডে মাওবাদীদের ঘাঁটি ভেঙে দিতে সম্প্রতি আরও বেশি তৎপরতা দেখা গিয়েছে। একের পর এক সংঘর্ষ ও অভিযানেও তার প্রমাণ মিলেছে।
আরও পড়ুনঃ WestBengal : ‘ভুল’ ইনজেকশনে বিপদ? বালুরঘাটে ১০ প্রসূতির রহস্যজনক অসুস্থতা, তদন্তে নেমেছে স্বাস্থ্য দফতর!
এখন নজর শাহের দফতরের দিকে। কেন্দ্র এই বকেয়া অর্থ মকুব করে কি না, সেটাই বড় প্রশ্ন। মাওবাদী দমনে ঝাড়খণ্ড সরকারের সক্রিয় ভূমিকাকে কুর্নিশ জানিয়ে যদি কেন্দ্রীয় মন্ত্রক দায়িত্ব ভাগ করে নেয়, তবেই সম্ভব হবে রাজ্যের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন। না হলে প্রশাসনিক ভার কমানোর চেষ্টায় বিপর্যস্ত হতে পারে রাজ্যের প্রান্তিক মানুষদের জন্য পরিকল্পিত নানা প্রকল্প।





