রাজ্যে একের পর এক নারকীয় ঘটনা যেন কিছুতেই থামছে না। এক সপ্তাহ আগেই বালেশ্বরে কলেজছাত্রী আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনায় তোলপাড় হয়েছিল ওড়িশা। এখনও সেই ঘটনার ক্ষত শুকোয়নি। এর মধ্যেই ফের একবার পুরী জেলার একটি গ্রামে ঘটে গেল আরও মর্মান্তিক ও ভয়ানক ঘটনা। এবার নিগৃহীতা মাত্র ১৫ বছরের এক কিশোরী। চারিদিকে শুরু হয়েছে চাঞ্চল্য, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।
শনিবার, পুরী জেলার বাইয়াবার গ্রামে বন্ধুর বাড়ি যাওয়ার পথে হামলার মুখে পড়ে ওই কিশোরী। অভিযোগ, রাস্তার মাঝখানে আচমকা তার পথ আটকে দাঁড়ায় তিন দুষ্কৃতি। তারপর তার গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুনে জ্বলে ওঠে শরীর। আতঙ্কে চিৎকারে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। আশেপাশের লোকজন ছুটে এসে আগুন নিভিয়ে তাকে উদ্ধার করে। বর্তমানে ভুবনেশ্বর AIIMS–এ আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছে মেয়েটি।
ঘটনার খবর পেয়েই এলাকা পরিদর্শন করে পুলিশ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুষ্কৃতীদের খোঁজে ইতিমধ্যে তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে। তবে এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি। পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষজনও আতঙ্কিত, কেন এইরকম ঘৃণ্য হামলা, কারা এর পেছনে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে বহু প্রশ্ন।
ওড়িশার উপ–মুখ্যমন্ত্রী তথা নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী প্রভাতি পারিদা এক্স–এ একটি পোস্ট করে ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন। তিনি লেখেন, “এই মর্মান্তিক ঘটনার খবর শুনে আমি স্তম্ভিত। কিশোরীর চিকিৎসার সম্পূর্ণ খরচ রাজ্য সরকার বহন করবে।” পাশাপাশি, পুলিশকে দ্রুত কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।
আরও পড়ুনঃ উন্নয়ন না মাওবাদী দমন? ১৩,৩০০ কোটির টানাপোড়েনে বিপাকে ঝাড়খণ্ড!
এই ঘটনার ঠিক এক সপ্তাহ আগেই, ১২ জুলাই বালেশ্বরে কলেজ চত্বরে গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন এক ছাত্রী। অভিযোগ ছিল, এক অধ্যাপক তাঁকে যৌন হেনস্থা করেছিলেন এবং অভিযোগ জানিয়েও প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। ১৪ জুলাই ওই ছাত্রীর মৃত্যু হয়। ওই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের আরেক কিশোরীকে নিশানা করল দুষ্কৃতীরা। দু’টি ঘটনাই ওড়িশায় নারী নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলছে বারবার।





