সম্প্রতি লাদাখ সীমান্তে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর ভারত-চীনের সেনাবাহিনীদের মধ্যে সমস্যার সৃষ্টি হয়। সেখান থেকে ধীরে ধীরে দুই দেশের মধ্যে পরিস্থিতি উত্তেজিত হতে শুরু করে। কিন্তু এই বিভেদ যেন বিবাদের সূত্রপাত না করে সেই নিয়েই ভারত ও চিনের মধ্যে কূটনৈতিক বৈঠক হয়। লাদাখে পরিস্থিতির জেরে দুই দেশের সেনা কম্যান্ডাদের বৈঠকের আগেই এই বার্তা এলো দুই রাষ্ট্রের তরফের।
সীমান্তে গত মাসের শুরু থেকে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তার সুষ্ঠু সমাধানের জন্য এই প্রথম দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক স্তরে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হল। ভারতের তরফে প্রতিনিধিত্ব করেন যুগ্ম সচিব ( পূর্ব এশিয়া) নবীন শ্রীবাস্তব। চিনের তরফ থেকে ছিলেন বিদেশমন্ত্রকের ডিরেক্টর জেনারেল উ জিয়াংঝাও।
এই বৈঠকে নানান বর্তমান পরিস্হিতি নিয়ে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা চলে বৈঠকে। তবে সীমান্তের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে এ কথা সরাসরি বলা না হলেও আকারে ইঙ্গিতে তা স্পষ্ট বোঝা গেছে। ভারত বিবৃৃৃতিতে জানিয়েছে,যে দু’দেশেরই একে অন্যের সংবেদনশীলতার দিকে খেয়াল রেখে বিবেচনা করা। অন্যদিকে চিন বলেছে, দু’দেশের একে অপরের প্রতি বিশ্বাস বৃদ্ধি করার ওপর জোর দেওয়া দরকার, যেন আগামী দিনে কোনো ভাবে তারা একে অপরের কাছে বিপদের কারণ হয়ে না দাঁড়ায়।
প্রায় এক মাস ধরে সীমান্তে গালওয়ান উপত্যকা ও প্যাংগং সো লেকের কাছে চার জায়গায় ভারত ও চিন উভয়ই সেনার সংখ্যা বাড়িয়েছে। কিছু চিন সেনা যে ভারতীয় সীমান্তে প্রবেশ করেছে, সেটাও স্বীকার করেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। যদিও তিনি জানিয়েছেন যে ভারত প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিয়েছে।
শনিবার লিউট্যানেন্ট জেনারেল পর্যায়ে আলোচনা হবে দুই দেশের মধ্যে। ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবেন ১৪ কর্পসের কম্যান্ডিং অফিসার হরিন্দার সিং। তার আগেই হল এই কূটনৈতিক পর্যায় বৈঠক হয়ে গেল। তারপর ভারত জানায় যে,’ দু’দেশেরই আলোচনার মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে বিভেদ মিটিয়ে ফেলা উচিত।দুই পক্ষেরই একে অপরের সংবেদনশীলতা, উদ্বেগ ও উচ্চাকাঙ্খার কথা মাথায় রেখে এগিয়ে চলা দরকার। দুদেশের এই বিভেদ জেন বিবাদের রূপ না নেয়।’
দুই দেশ জানিিয়েছে যে তাদের শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করে যে ভারত ও চিনের মধ্যে শান্তিপূর্ণভাবে থাকলে তা শুধু দুজন না সারা বিশ্বের জন্য লাভজনক। ২০১৭ তে ডোকলামে অচলাবস্থা মেটার পর উহানে মোদী ও শি জিনপিংয়ের মধ্যে আলোচনায় এই বার্তাই দিয়েছিলেন দুই শীর্ষ নেতা।
অন্যদিকে চিনের পক্ষ থেকে ম্যান্ডারিনে বলা হয় যে দুই দেশ একে অপরের জন্য যেন বিপদের কারণ না হয়ে যেন একে অপরকে উন্নয়নের সুযোগ দেয়। বিবাদ ঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করার ওপরও জোর দিয়েছে বেজিং সরকার। ভারত-চিনের ৭০ বছরের সম্পর্ক যাতে শান্তির দিকে এগিয়ে যায়, সেই বার্তাও দিয়েছে বেজিং।
এদিন করোনা নিয়েও কথা হয় দুই দেশের মধ্যে। ট্রাম্পের প্রসঙ্গে না এলেও, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) যাতে ভালোভাবে তাদের কাজ করে যেতে পারে, তার ওপর জোর দিয়েছে চিন সরকার।






