দেশজুড়ে অভিযোগ উঠেছিল কাউকে আগাম কিছু না জানিয়ে হঠাৎ লকডাউন ঘোষণা করেছে ভারত সরকার। তাতে অসুবিধার সম্মুখীন হয়েছেন কোটি কোটি মানুষ। শনিবার কেন্দ্র সাফ জানিয়ে দিয়েছে, কোভিড ১৯ এর (COVID-19) মোকাবিলায় ভারতের পদক্ষেপ “স্বতঃপ্রণোদিত, সক্রিয়”। ২১ দিনের লকডাউন পরিকল্পনা করা ছাড়াই ঘোষণা করার ফলে বহু মানুষ, বিশেষ করে ভিন রাজ্যে দৈনিক মজুরিতে কাজ করা শ্রমিকদের সমস্যায় ফেলেছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে এদিন তা খারিজ করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। একটি বিবৃতিতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক জানিয়েছে, দেশের সীমান্তে অনেক আগেই “দক্ষ প্রত্যুত্তর কেন্দ্র” তৈরি করা হয়েছে। ৩০ জানুয়ারি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনা ভাইরাস আক্রমণকে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করার আগেই তা তৈরি করা হয়েছে।
এই লকডাউন নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে এসেছে সমালোচনা। অভিযোগ, কোনও পরিকল্পনা ছাড়াই এই লকডাউন ঘোষণা করার ফলে, বহু মানুষ অসহায় অবস্থায় পড়েছেন এবং খাদ্য ও অন্যান্য অত্যাবশকীয় পণ্যের জোগান নিয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।
করোনা ভাইরাসের ছড়িয়ে পড়া রুখতে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বেরোনো নিষিদ্ধ করেছে সরকার, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে মানুষকে বাড়িতে থাকতে বলা হয়েছে। সমস্ত গণপরিবহন ব্যবস্থা বন্ধ করা হয়েছে, এর জেরে হেঁটে কয়েকশো কিলোমিটার পাড়ি দিতে দেখা দিয়েছে অনেকজনকে।
১৮ জানুয়ারি চিন এবং হংকং থেকে আগত আন্তর্জাতিক যাত্রীদের পরীক্ষা করা শুরু হয়, সেই যাত্রীদের মধ্যে থেকেই ভারতে প্রথম করোনা ভাইরাস ধরা পড়ে ৩০ জানুয়ারি। ইতালি ও স্পেনের উদাহরণ তুলে ধরে, বিবৃতিতে বলা হয়েছে, একাধিক সক্রিয় পদক্ষেপ করেছে সরকার, এবং যেভাবে পদক্ষেপ করা হয়েছে, তাও তুলে ধরা হয়েছে। ১২টি বড় এবং ৬৫টি ছোটো বন্দর, ৩০টি বিমানবন্দর এবং সীমান্তে যাত্রীদের পরীক্ষা করা গিয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার। পাশাপাশি জানানো হয়, ৩৬ লক্ষ যাত্রীর পরীক্ষা করা হয়েছে। শনিবার পর্যন্ত ভারতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৯৩৩, মৃতের সংখ্যা ২০ বলে জানানো হয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তরফে।





