“মানতে হবে সব নিয়ম, তবেই দূর হবে করোনা”, ২১ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে বললেন মোদী

এই মাসের পয়লা দিন থেকে ভারতে লকডাউন বিধি শিথিল করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিগত ১৫ দিনে এই প্রক্রিয়া ভারতে কি প্রভাব ফেলেছে তা অনেকটাই স্পষ্ট হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রভাব সম্পর্কে আরো বিস্তারিত ও নিশ্চিত তথ্য জানার জন্য আজ ২১ টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স করেন। এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল করোনাভাইরাস এবং লকডাউন পরিস্থিতির আগামীদিনের কী কৌশল হবে তা নির্ধারণ করা।

আজ এই ভিডিও কনফারেন্সে তিনি মুখ্যমন্ত্রী দের উদ্দেশ্যে বলেন যে আনলক ওয়ান এরপর দুই সপ্তাহ পার হয়ে গিয়েছে। আমাদের এই সময় যে অভিজ্ঞতা হয়েছে তা ভবিষ্যতে আমাদের জন্য লাভজনক হতে পারে। আজ আমি আপনাদের থেকে বাস্তবের পরিস্থিতি সম্বন্ধে জানতে পারব এবং আপনাদের পরামর্শ আমাদের ভবিষ্যতের কৌশল নির্ধারণে সহায়তা করবে।

আজকে প্রথম দফায় বৈঠক হয়। আগামী দিনে আরও বেশ কয়েক দফা বৈঠক হবে বাকি রাজ্যগুলোর সঙ্গে। প্রথম দফার বৈঠকে মোট ২১টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আজ উপস্থিত ছিল। যে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গুলো আজ উপস্থিত ছিল সেগুলো হল – পঞ্জাব, অসম, কেরালা, উত্তরাখণ্ড, ঝাড়খণ্ড, ছত্তিশগড়, ত্রিপুরা, হিমাচল প্রদেশ, চণ্ডীগড়, গোয়া, মণিপুর, নাগাল্যান্ড, লাদাখ, পুদুচেরি, অরুণাচল প্রদেশ, মেঘালয়, মিজোরাম, আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, সিকিম, লাক্ষাদ্বীপ, দাদরা ও নগর হাভেলি এবং দমন ও দিউ।

এই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী কী কী বলেছেন তার সংক্ষিপ্ত আকারে প্রকাশ করা হল। পড়ে নিন এক ঝলকে।

১) আগামী দিনের যে যে রাজ্যগুলিতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পুরোপুরিভাবে শুরু হতে চলেছে তাদের অভিজ্ঞতা অন্যান্য রাজ্যগুলিকে সমৃদ্ধ করবে। গত কয়েক সপ্তাহে লাগাতার চেষ্টার ফলে দেশের অর্থনীতি অনেকটাই উন্নয়ন ঘটেছে। দেশে বিদ্যুতের ব্যবহার ও অনেকটা কমেছে।

২) এরপরে যখন করো না ভাইরাসের বিরুদ্ধে ভারতের লড়াই নিয়ে ভবিষ্যতে আলোচনা হবে তখন পারস্পরিক সহযোগিতামূলক যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর কথা মনে করিয়ে দেবে। এরপরে মোদী উল্লেখ করেন ভারতে জনসংখ্যা অনুযায়ী আক্রান্তের সংখ্যা অনেক কম বিশ্বের অন্যান্য দেশের পরিপ্রেক্ষিতে।

৩) মোদী বলেছেন, গত কয়েক সপ্তাহে হাজার হাজার বার ভারতীয় বিদেশ থেকে ফিরেছেন, লাখ লাখ শ্রমিক নিজের রাজ্যে যাত্রা করেছেন। লোকাল ও মেট্রোরেল বাদ দিয়ে সমস্ত গণপরিবহন চালু হয়ে গেছে। তাও বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় ভারতে করোনাভাইরাস এর প্রভাব অতটা পড়েনি।

৪) আশার কথা এই যে ভারতে এই মারণ ভাইরাসের আক্রমণ থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার হার কিন্তু ৫০ শতাংশেরও বেশি। আমাদের কাছে একজন ভারতীর মৃত্যু বেদনাদায়ক কিন্তু সেখানে এটাও সত্যি যে বিশেষ সেইসব দেশের মধ্যে ভারত অন্যতম যেখানে করোনায় সব থেকে কম মৃত্যু হয়েছে।

৫) আমরা করোনাকে যতটা আটকাতে পারব তত আমাদের লাভ, আমাদের অর্থনীতিকে ফের সচল হয়ে উঠবে। নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে।

৬) এই মুহূর্তে মাস্ক ছাড়া কোনভাবেই বাইরে বেরোনো যাবে না। ‘দো গজ কি দূরি’, হাত ধোয়া এবং স্যানিটাইজার ব্যবহার সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ। বাজার খোলা এবং মানুষ বাইরে বেরোনোর সঙ্গে সঙ্গে এই সতর্কতাগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

RELATED Articles

Leave a Comment