‘কার দেহ পুড়িয়েছে জানি না, সকলেই রাজনীতি করছে’, বিস্ফোরক হাথরাস নির্যাতিতার বৌদি

গত ২৪ ঘন্টা ধরে লড়াই করার পর অবশেষে উত্তরপ্রদেশের হাথরাসে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে পেরেছেন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা। আর তারপরেই ফাঁস হলো চাঞ্চল্যকর তথ্য। মনীষা বাল্মীকির বৌদি এমন কিছু সত্য তথ্য জানালেন যা হাড়হিম করে দেবে সকলকে। গত কয়েকদিন ধরে প্রায় দেড়শ পুলিশ দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছিল মনীষা বাল্মীকির বাড়ি। সেখানে কাউকেই কোনভাবেই ঢুকতে দেওয়া হচ্ছিল না। সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পুলিশরা রীতিমতো কবাডি খেলছিলেন, সাংবাদিকরা একটা পা এগোলেই তারা গোল করে ঘিরে ধরছিলেন।

তবুও গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভের জয় হয় এবং তারা আজ সকালে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। তার বৌদি জানিয়েছেন, “এখনো পর্যন্ত তাদের কাছে কোন নেতার ফোন আসেনি।”

তার ননদের মৃত্যু নিয়ে সকলেই রাজনীতি করছে। তাদেরকে বাথরুমে যেতে হলেও পুলিশের অনুমতি নিতে হচ্ছে! গতকাল এসটিএফের কোনও দল আসেনি। তাদের সঙ্গে গত পরশু জেলাশাসক প্রবীণ কুমার কথা বলেছিলেন বকলমে হুমকি দিয়ে গিয়েছিলেন। বারংবার তাদের বয়ান বদল এর জন্য চাপ দিচ্ছিলেন যোগী রাজ্যের পুলিশ তাদের বিভিন্ন উপায়ে এখনও হুমকি দিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ জানিয়েছেন নির্যাতিতার বৌদি।

নির্যাতিতার মা বলছেন, “মনীষা মৃত্যুর আগে নিজের মুখে বলে দিয়েছে যে ওর ধর্ষণ হয়েছে তাহলে কি ও মিথ্যা কথা বলেছে? আমাদের বারবার বলা হচ্ছে আমাদের নারকো টেস্ট করা হবে আমরা সত্যি বলছি কিনা জানার জন্য। কিন্তু আমরা কেন ওরকম টেস্ট করাব যেখানে আমরা জানি আমরা কোন মিথ্যা কথা বলছি না? যদি এই টেস্ট করাতে হয় তাহলে জেলাশাসক ও পুলিশ আধিকারিকদের করানো হোক। ওরা তো মিথ্যে কথা বলছে।”

বিস্ফোরক বক্তব্য রাখেন মনীষার মা। এমনকি এও জানা গিয়েছে যে, জেলাশাসক এসে তাদেরকে বলেছেন, “তোমার মেয়ে করোনায় মারা গেলে তো কোন টাকা পেতে না। এখন তো পাচ্ছো, নিয়ে চুপ হয়ে যাও।” কিন্তু মনীষার পরিবারের সাফ বক্তব্য, “আমরা টাকা চাইনা।”

এমনকি মনীষার পরিবারের সন্দেহ সেদিন যে দেহ পোড়ানো হয়েছিল তা আদৌ মনীষার কিনা! তার বৌদি বলেছেন, “আমাদেরকে মৃতদেহ একবারের জন্যও দেখতে দেওয়া হয়নি। আমরা জানি না সেদিন রাতে কার মৃতদেহ সৎকার করেছে পুলিশ! এখন আমাদের সন্দেহ ওটা আদৌ আমাদের মেয়ের দেহ তো নাহলে পুলিশ কেন একবারের জন্য দেখতে দেবেনা? আমরা জেলাশাসককে এই ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তিনি উল্টে বলেছেন, “ময়নাতদন্তের পর দেহের কী অবস্থা হয় তোমরা জানো না। মনীষার যা অবস্থা হয়েছিল তা তোমরা দেখতে পারতে না। তোমাদের দশ দিন ঘুম হত না আর খেতেও পারতে না তাই দেখানো হয়নি।”

যদিও মনীষার পরিবার জেলাশাসকের এই বক্তব্য মানতে নারাজ। তবে যেভাবে গোটা দেশ তাদের মেয়ের জন্য গর্জে উঠেছে তাতে তারা সুবিচার পাবেন বলেই আশা করছেন।

RELATED Articles

Leave a Comment