পঞ্চায়েতি কাজে স্বচ্ছতা আনতে চালু হল, ‘ই-গ্রাম স্বরাজ অ্যাপ’ এবং ‘স্বামীত্ব যোজনা অ্যাপ’

“পঞ্চায়েতি ব্যবস্থা মজবুত হলে তবেই তো গণতন্ত্র মজবুত হবে, সবাই উন্নয়নের সুবিধা পাবে সাথে স্বাবলম্বী হবে গোটা দেশ।” জাতীয় পঞ্চায়েত দিবস উপলক্ষে এই উক্তিটি করেন প্রধানমন্ত্রী।আজকে দেশের পঞ্চায়েত প্রধানদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, এবং ভবিষ্যৎ এ পঞ্চায়েতের কাজকর্ম কীভাবে চলবে, সেই নিয়ে আলোচনাও করলেন তিনি।

একইসঙ্গে উন্নত তথ্যপ্রযুক্তির যুগে পঞ্চায়েতগুলির কাজের স্বচ্ছতা বাড়াতে এবং সেগুলিকে টেকনোলজির সাথে জুড়তে এদিন ২টি অ্যাপের উদ্বোধনও করেন তিনি। একটি ‘ই-গ্রাম স্বরাজ অ্যাপ’, অন্যটি ‘স্বামীত্ব যোজনা অ্যাপ’।

ই-গ্রাম স্বরাজ অ্যাপ সম্বন্ধে কিছু কথা:
** দেশের গ্রামীণ জনতার জন্য এটি একটি অ্যাপ।
** এই অ্যাপে থাকবে পঞ্চায়েতগুলির সমস্ত তথ্য এবং গ্রামীন উন্নয়নের তথ্যাদি। এর মাধ্যমে পঞ্চায়েতের বিভিন্ন কাজে আরও বেশি স্বচ্ছতা আসবে বলে আশা করা যায়।

দ্বিতীয়টি স্বামীত্ব যোজনা অ্যাপ:
** গ্রামের মানুষের মধ্যে অনেক সময়েই পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিবাদ সৃষ্টি হয়। তাদের কাছে সম্পত্তির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র অবধি থাকে না। এবার সেই সমস্যা মেটাতে এলো এই অ্যাপ।
** স্বামীত্ব যোজনায় ড্রোনের মাধ্যমে গ্রামবাসীদের সম্পত্তির ম্যাপিং হবে।
** জিপিএস-এ ম্যাপিংয়ে সম্পত্তির খতিয়ান তৈরি করা হবে।
** এইভাবেই সম্পত্তির মালিকানা নির্ধারণ করা হবে।
** মালিকানা পাবেন গ্রামবাসীরাই।
** এইঅ্যাপ সম্বন্ধে মোদী বলেন, “সম্পত্তির ডিজিটাল নথিতে সুগম হবে ঋণের পথ। ডিজিটাল পথে গ্রামীণ ভারতের ভোল বদলাবে।”

আত্মনির্ভরতার শিক্ষা এই করোনা মহামারী আমাদের শিখিয়েছে। তাই এদিন কনফারেন্সে বর্তমান পরিস্হিতিরও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি করোনার এই বিপর্যয়কে ‘একটি শিক্ষা’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “করোনার মোকাবিলার জন্যই দেশে কাজের পদ্ধতি অনেক বদলে গিয়েছে। আমরা বিপদের মধ্যে পড়েই তথ্যপ্রযুক্তির সাথে যুক্ত হয়েছি। আজকের এই ভিডিয়ো কনফারেন্স তারই প্রমান। আবার করোনা মহামারী আমাদের অনেক শিক্ষা দিয়েছে। করোনা যেমন একদিকে আমাদের অসচেতনতাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছে তেমনি আমাদের আত্মনির্ভর হতেও শিক্ষা দিচ্ছে। সঙ্কটই জাতির আসল পরীক্ষা। এটাই করোনার শিক্ষা।”

তিনি এদিন আরও বলেন, “প্রতিটি গ্রাম থেকে শুরু করে জেলা, রাজ্য সবাইকে আত্মনির্ভর হতে হবে। দেশকে আত্মনির্ভর হতে হলে আমাদের ভিতকে শক্ত করতে হবে। শহর আর গ্রামের এই যে বিস্তর ব্যবধান তা কমাতে হবে। দেশের ১ লাখ গ্রামে এখন ব্রডব্যান্ড পরিষেবা পাওয়া যায়। গ্রামের মানুষদের হাতে হাতে এখন কম দামে স্মার্টফোনও পৌঁছেছে।”

এছাড়া করোনা মোকাবিলায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কাজ করার কথাও বলেন তিনি এবং নানা অসুবিধা সত্ত্বেও লকডাউনকে সঠিকভাবে ও সচেতনভাবে মেনে চলার জন্য দেশবাসীকে অভিনন্দনও জানান প্রধানমন্ত্রী।

RELATED Articles

Leave a Comment