‘আমি বিজেপির বিধায়ক, কোনওদিন তৃণমূলে ছিলাম না, বিজেপির হয়েই কাজ করতে চাই’, দিল্লি গিয়ে বললেন মুকুল

এক ফুল থেকে অন্য ফুলে বিচরণ করেই থাকেন তিনি। তবে এখন প্রশ্নটা হচ্ছে যে বর্তমানে ঠিক কোন ফুলে তিনি রয়েছেন? তাঁর দিল্লি যাত্রা নিয়ে সোমবার রাত থেকে নানান নাটকীয় কাণ্ডের সাক্ষী থেকেছে রাজ্য। এবার দিল্লি (Delhi) গিয়ে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করলেন মুকুল রায় (Mukul Roy)।

মুকুল জানিয়েছেন যে একাধিক রাজনৈতিক কাজ নিয়েই তিনি দিল্লি গিয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ্‌’র সঙ্গেও তিনি কথা বলেছেন বলে জানান। মুকুলের দাবী, তিনি কখনওই তৃণমূলে ছিলেন না। বিজেপির হয়েই কাজ করতে চান।

তাঁর কথায়, “আমি বিজেপির বিধায়ক। তৃণমূলে কোনওদিনই ছিলাম না। তৃণমূলে থেকে তৃণমূলের বিরুদ্ধে কাজ করাও যায় না। আমি বিজেপির হয়েই আরও বেশি দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে চাই। সেই আরজিই নাড্ডাজি, শাহজিকে জানাব”।

গতকাল, মঙ্গলবার দিল্লির এক সংবাদমাধ্যমে মুকুল এও বলেন, “আমি লোকসভার মেম্বার। কোনওদিনই বিধায়ক ছিলাম না। তাই লোকসভায় কাজে এসেছিলাম”। সম্প্রতি তাঁর মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার হয়েছে। তাঁর মাথায় একটি চিপ বসিয়েছেন ডাক্তারবাবুরা। কিন্তু এদিন মুকুলবাবুর মুখে যে কথা শোনা গেল, তাতে তাঁর মানসিক সুস্থতা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। তাঁর ছেলে শুভ্রাংশু রায় এমন কথাই বলেছিলেন।

দিল্লি বিমানবন্দর থেকে মুকুলের ‘নিখোঁজ’ হয়ে যাওয়া নিয়ে তাঁর ছেলে শুভ্রাংশু রায় দাবী করেছিলেন যে তাঁর বাবাকে অপহরণ করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে মুকুল বলেন, “বাড়িতে না বলে বেরিয়ে আসলেই কেউ নিখোঁজ হয়ে যায় না। বাড়ির লোকের যদি মনে হয় অপহরণের মামলা করে দিই, তাহলে করতেই পারে। আমি ইচ্ছা করেই দিল্লি এসেছি”।

মুকুলের এই অন্তর্ধান নিয়ে থানায় নিখোঁজের অভিযোগও করেন শুভ্রাংশু। মুকুলের কথায়, “ও নিজের ইচ্ছায় আমার নামে মিসিং ডায়েরি করেছে। আমি নিজের ইচ্ছায় দিল্লি এসেছি। এখন আমার অনেক কাজ। কোনও বিজেপি নেতার সঙ্গে এখনও দেখা করিনি”।

এদিকে আবার মুকুল রায় প্রসঙ্গে তৃণমূল তথা শুভ্রাংশু রায়কে খোঁচা দিতে ছাড়েন নি বিজেপি সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, “আমার মনে হয়, বাড়ির লোকের অত্যাচারে উনি বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছেন। উনি বাড়িতে খুব কষ্টে ছিলেন। ছেলে অত্যাচার করে। দলের কাছেও তিনি খুব সুখী নন। পীযুষ কানোরিয়ার নামও আসছে। ওনার সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের কি সম্পর্ক জানি না। আমাদের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই। দায় আমাদের ঘাড়ে চাপানো হচ্ছে”।

RELATED Articles