লাদাখ সীমান্তে ভারত এবং চীনের সেনাবাহিনীর মধ্যে বর্তমানে চরম পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে৷ দুই দেশের বাহিনীই আগ্রাসী মনোভাব দেখাতে শুরু করেছে৷ শুধু লাদাখই নয়, সেই সঙ্গে সিকিমের নাকুলা পাসেও দুই বাহিনীর জওয়ানদের মধ্যে হাতাহাতি, পাথরবৃষ্টি হয়েছে৷ পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা করে নিজেদের ঝালাচ্ছে দু’ পক্ষই৷ পরিস্থিতির পর্যালোচনায় মঙ্গলবারই প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংহ ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল, সিডিএস বিপিন রাওয়াত এবং তিন বাহিনীর প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেন।
উক্ত পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক ভাবে সমস্যার সমাধানের জন্য প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সরকারের দেখানো পথই নরেন্দ্র মোদীর কাছে অন্যতম বিকল্প হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা৷ কিন্তু কী সেই বিকল্প পথ ?
২০১২ সালে প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন মনমোহন সিং চীনের সঙ্গে একটি ওয়ার্কিং মেকানিজম (WMCC) বা সীমান্তে কার্যপদ্ধতি মেনে চলার নথিতে চুক্তি বদ্ধ হয় ভারত৷ সেই সময় বেজিংয়ে ভারতের রাষ্ট্রদূত এবং বর্তমান বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ভারতের হয়ে এই কার্যপদ্ধতি মেনে চলার নথিতে সই করেছিলেন৷ দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত সংক্রান্ত বিবাদের মীমাংসা করতেই এই ওয়ার্কিং মেকানিজম তৈরি হয়েছিল৷ ২০১২ সালের জানুয়ারি মাসে যার সূত্রপাত হয়৷ তৎকালীন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা শিবশঙ্কর মেনন এবং চিনের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার মধ্যে আলোচনার পর দুই দেশ সহমতের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিল৷ সীমান্তে ঝামেলা এড়াতে দুই দেশের যুগ্ম সচিব স্তরের আধিকারিকদের এই কার্যপদ্ধতি মেনে চলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল৷ বর্তমানে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের হাতে এই ক্ষমতা রয়েছে৷
বর্তমানে অবশ্য বিদেশ মন্ত্রকের পূর্ব এশিয়ার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত নবীন শ্রীবাস্তব ভারতীয় প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে রয়েছেন৷ ২০১২ সালের পর থেকে এই কার্যপদ্ধতি মেনে চলার বিষয়ে দু’ দেশের মধ্যে মোট ১২টি বৈঠক হয়েছে৷ শেষ বার গত বছরের জুলাই মাসে দু’ দেশের শীর্ষ কর্তাদের মধ্যে বৈঠক হয়েছিল৷
বর্তমান সংঘাতের পরিস্থিতিতে পূর্ব এশিয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম সচিব নবীন শ্রীবাস্তবকে কূটনৈতিক স্তরে সমস্যার সমাধানের জন্য আলোচনা চালাতে বলা হতে পারে৷ কারণ WMCC-র মূল উদ্দেশ্যই ছিল সীমান্তের পরিস্থিতি নিয়ে দু’ তরফেই সময়মতো পরস্পরকে অবহিত করা এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী সঠিক পদক্ষেপ করা৷ ভারত এবং চিনের সেনাবাহিনীর মধ্যে সংঘাতের পরিস্থিতি দেখে অনেকেরই ২০১৭ সালের ডোকলাম বিবাদের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে৷ শেষ পর্যন্ত লাদাখের সংঘাতও সেই পথেই এগোলে তা ডোকলামের পর দু’ দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে সবথেকে বড় সংঘর্ষের ঘটনা হবে৷ শেষ পর্যন্ত কূটনৈতিক পথেই নরেন্দ্র মোদী এই উত্তেজনার নিরসন করতে পারে কি না, সেটা এখন সময় বলবে৷





