ঘূর্ণিঝড় আমফানের জেড়ে কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে বকখালি। ধূ-ধূ সমুদ্রপাড়ে এখন পরপর শায়িত ঝাউগাছ। ঝড়ে ছারখার উপকূলের রক্ষাকারী দেওয়াল। ভেঙে পড়া গাছ নিয়ে যাচ্ছেন অনেকে। রেহাই পাচ্ছে না বেঁচে যাওয়া গাছও। অবাধে চলছে কাঠ-চুরি। দুর্যোগ পেরিয়ে গেলেও, প্রতিদিন আসলে আরও অরক্ষিত হয়ে পড়ছে বকখালি সমুদ্র, লাল কাঁকড়া, ম্যানগ্রোভ জঙ্গল, ঝাউবন, আর এক রাশ নিস্তব্ধতার দেশ বকখালি। আমফানের ধাক্কায় সেই বকখালি আজ যেনও আরও নিশ্চুপ। চুপচাপ ঝাউগাছের লাশ গুনছে সাগরের ঢেউ। এই বকখালির ঝাউবন, উপকূলের রক্ষা দেওয়াল তো কবে থেকেই চুরি হতে শুরু করেছে। অভিযোগ ওঠো বার-বার। কিন্তু ভ্রুক্ষেপ নেই কারোর। চোরেরাও নিজেদের কাজ করে যায়।
পরিবেশবিদরা বলেছেন, গাছ লোপাট হয়ে যাওয়ায় মানেই ক্রমশ শিথিল হচ্ছে মাটির বাঁধন। সেই সঙ্গে বাড়ছে সমুদ্রের ভাঙন। ক্রমে ভেতরের দিকে ঢুকে আসছে সমুদ্র। আর তারপর আমফানের মত ঘুর্ণিঝড়ের দাপটে তছনছ হয়ে যায় সমুদ্রতটের বাসিন্দাদের জীবন।
এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বকখালির বাসিন্দা চণ্ডীরানি দাস। চোখের সামনে দেখেন, কাক-ভোরে সূর্য ওঠার আগেই সমুদ্র লাগোয়া ঝাউবন থেকে আস্ত গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছেন আশেপাশের গ্রামের মানুষরা। সব দেখেও প্রতিবাদের ভাষা খুঁজে পান না ওরা। এতে তো বিপদ বাড়ছে! প্রতিবাদ করেন না কেন? প্রশ্নের উত্তরে বছর ষাটের চন্ডীরাণী বলেন,”না। প্রতিবাদ নেই। প্রতিবাদ করেও লাভ নেই। জানেন সকলেই।”
বন দফতরের নজরদারি নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। কিন্তু বদলায়না ছবি। আমফানে পড়ে যাওয়া গাছ থেকে শুরু করে বেঁচে যাওয়া গাছও চুরি হয়ে যাচ্ছে অবাধে। চোখের সামনে। বকখালি সি বিচ-এর ওপর ফাস্টফুডের দোকান চালান সর্বাণী জানা। গাছ চুরির প্রসঙ্গ উঠতেই সর্বাণী বলেন,”প্রতিবাদ করে বিপদে পড়েছি। এখন তাই আর দেখেও দেখি না।” বিধ্বস্ত বকখালি হয়তো ফের সামলে উঠবে। কিন্তু ঝাউবনের কী হবে? চুরি কী আটকানো যাবে? নিজের বিপদ কী বুঝবে বকখালি? এমন অনেক প্রশ্নের উত্তর হয়ত মিলবে আগামী দিনের কোনও এক আমফান ঝড়ে।





