বিজ্ঞানের সঙ্গে সচরাচর ভাব জমাতে অনাগ্রহ প্রকাশ করে আট থেকে আশি সকলেই, কিন্তু সায়েন্স সিটি থেকে বিড়লা ইন্ডাস্ট্রিয়াল মিউজিয়ামে গেলে বিজ্ঞানের বিস্ময়কর কারিকুরি দেখে মজা পান না এরকম মানুষ বোধহয় নেই। বিজ্ঞানকে মানুষের কাছে জনপ্রিয় করে তোলার জন্য যে মানুষটি উদ্যোগী হয়েছিলেন সেই ডঃ সরোজ ঘোষ (Dr. Saroj Ghosh) আজ পদার্পণ করতে চলেছেন ৮৫ বছরে।
তাকে বিজ্ঞান মহলের সকলেই ‘মিউজিয়াম মেকার’ (Museum Maker) বলে জানেন। ১৯৬০ সাল নাগাদ বিজ্ঞানকে মানুষের কাছে নিয়ে আসার জন্য স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন ডক্টর ঘোষ এবং পরবর্তীকালে ১৯৭৮ সালের ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ সায়েন্স মিউজিয়াম (NCSM) এর প্রতিষ্ঠার পেছনে তিনি বৃহত্তর অবদান রাখেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে সাধারণ মানুষের কাছে বিশেষ করে শিশুদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য তিনি যে উদ্যোগ নিয়েছিলেন তা চির প্রশংসনীয়।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল এবং কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং এর প্রাক্তন ছাত্র এবং হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী ডক্টর ঘোষ পরবর্তীকালে বিড়লা ইন্ডাস্ট্রিয়াল এন্ড টেকনোলজিক্যাল মিউজিয়ামে যোগদান করেন (BITM)। ১৯৬৫ সালে তিনি বিড়লা ইন্ডাস্ট্রিয়াল মিউজিয়ামের দায়িত্ব নেন।

সেই বছরই ডক্টর ঘোষ নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ আশ্রম বিদ্যালয়ে ‘Mobile Science Museum’ অধুনা যা Mobile Science Exhibition শুরু করেন। বর্তমানে এরকম ৪৮ টি প্রদর্শনী গোটা দেশে হয়। লিমকা বুক অফ রেকর্ডস থেকে এই প্রদর্শনীতে ভারতের বৃহত্তম এবং দীর্ঘতম সময় ধরে চলা non-formal সায়েন্স এডুকেশন প্রোগ্রাম হিসাবে অভিহিত করেছে।
এরপর মূলত তাঁরই উদ্যোগে ১৯৯৭ সালে ৫০ একর জায়গাজুড়ে কলকাতায় তৈরি হয় সায়েন্স সিটি (Science City)। বর্তমানে যা গোটা দেশের অন্যতম একটি দর্শনীয় সায়েন্স সেন্টার। কেন্দ্রীয় সরকার তাঁকে সম্মান জানাতে ইতিমধ্যেই পদ্মশ্রী ও পদ্মভূষণ খেতাবে ভূষিত করেছে। এছাড়াও তিনি দেশ-বিদেশ থেকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন। তাই ভারতের সায়েন্স সেন্টার মুভমেন্ট এর পথিকৃৎ ডক্টর সরোজ ঘোষকে তাঁর ৮৫ তম জন্মদিনে ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ সায়েন্স মিউজিয়াম এর পক্ষ থেকে শ্রদ্ধার্ঘ্য জানানো হয়েছে।





