স্বাদেও অতুলনীয় ও পুষ্টিগুণেও ভরপুর, লাল পিঁপড়ের চাটনি এবার পেল GI ট্যাগ, কেমন খেতে এই চাটনি, জানেন?

গোটা বিশ্বে কত ধরণের কত খাবার রয়েছে। নানান দেশের খাবার তৈরির প্রণালী, উপকরণ ভিন্ন হয়ে থাকে। আমাদের দেশের নানান অঞ্চলেই নানান ধরণের খাবার মেলে। অঞ্চল হিসেবে খাবারের ধরণ, স্বাদ বদলে যায়। এবার দেশের আরও এক খাবার পেল GI ট্যাগ।

GI ট্যাগ বা জিওগ্রাফিকাল ইন্ডিকেশন ট্যাগ হল একটি স্বীকৃতি। কোনও এক জায়গার কোনও বিশেষত্বকে দেওয়া হয় এই GI ট্যাগ। সম্প্রতি অযোধ্যার হনুমানগঢ়হীর লাড্ডু পেয়েছে GI ট্যাগ। এর কিছু বছর আগে কলকাতার রসগোল্লা পেয়ে এই ট্যাগ। এবার এই GI ট্যাগ পেল লাল পিঁপড়ের চাটনি। এই খাবার বাকি খাবারের থেকে আলাদা ও ভিন্ন স্বাদের।

কোথায় প্রসিদ্ধ এই লাল পিঁপড়ের চাটনি?

লাল পিঁপড়ের চাটনি, শুনেই কেমন লাগছে তাই না? তবে ওড়িশার ময়ূরভঞ্জতে এই খাবার খুবই জনপ্রিয়য়। সেখানকার আদিবাসীরা এই চাটনি খান। আদিবাসী এলাকা অত্যন্ত প্রত্যন্ত হয়। আদিবাসীদের আর্থিক সঙ্গতিও তেমন না থাকায় পুষ্টির জন্য এই চাটনি খেয়ে থাকেন তারা। কারণ এই লাল পিঁপড়ের চাটনি পুষ্টিগুণে ভরপুর।

গত ৪ জানুয়ারি সরকার এই লাল পিঁপড়ের চাটনি না সিমলিপাল কাই চাটনিকে GI ট্যাগ দিয়েছে। ২০২০ সালেই ময়ূরভঞ্জ কাই সোসাইটি লিমিটেডের তরফে এই লাল পিঁপড়ের চাটনিকে GI ট্যাগ দেওয়ার জন্য আবেদন জানানো হয়েছিল।

এই লাল পিঁপড়ের চাটনি কীভাবে তৈরি হয়?

ওড়িশার ময়ূরভঞ্জের জঙ্গলে প্রচুর পরিমাণে লাল পিঁপড়ে মেলে। গাছ থেকে ঝরে পড়া পাতা দিয়ে লাল পিঁপড়েরা বাসা তৈরি করে। স্থানীয় ভাষায় এই পিঁপড়েকে বলা হয় ‘কাই পিমপুডি’। এই  লাল পিঁপড়েকে ধরেই এর সঙ্গে নানান মশলা মিশিয়ে বেটে চাটনি তৈরি করেন আদিবাসীরা।

সেই চাটনিই খান তারা। মনে করা হয়, এই পিঁপড়ে অত্যন্ত পুষ্টিকর। এতে প্রোটিন, ভিটামিন বি-১২, আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম, জিঙ্ক, পটাশিয়াম, সোডিয়াম ও কপার রয়েছে। ক্ষতস্থান পূরণ করারও গুণ রয়েছে এই লাল পিঁপড়ের মধ্যে।

RELATED Articles