আজ ৫ই জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস। বিশ্বের সব দেশেই এই দিনটা মহাসমারোহের সঙ্গে পালন করা হয়। এই বছর বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন রকমের প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন আমাজন জঙ্গল পুড়ে যাওয়া বা বিভিন্ন দেশে ভূমিকম্প বা বাংলায় ঘূর্ণিঝড় যেন আরো বেশি করে বুঝিয়ে দিচ্ছে আমাদের জীবনে পরিবেশ রক্ষা করাটা কত বড় দায়িত্ব। করোনা ভাইরাস যেন প্রকৃতির উপর মানুষের দীর্ঘকালের অত্যাচারের ফল, এমনটাই মনে করছেন সাধারণ মানুষ। তাই এই বৎসর সামাজিক দূরত্ব বিধি মেনেই ভারত সরকার আরও গুরুত্ব সহকারে পরিবেশ দিবস পালন করল।
কেন্দ্রীয় সরকার আজ বন বিভাগ, পৌরসংস্থা, এনজিও, বাণিজ্যক সংস্থা এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ও সহযোগিতার ওপর ভিত্তি করে আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২০০টি শহর বনাঞ্চলের বিকাশের জন্য ‘নগর বন’ প্রকল্প গড়ে তোলার কথা ঘোষণা করেছে।
এই বছর ভারতে রাষ্ট্রসঙ্ঘের পরিবেশ বিষয়ক নির্ধারিত দিনের উপর ভিত্তি করেই পালিত হল বিশ্ব পরিবেশ দিবস। এ বছরের বিষয় হল ‘জীববৈচিত্র্য’। কোভিড-১৯ মহামারির কারণে মন্ত্রক ভার্চুয়াল জগতের মাধ্যমে এ বছর বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপন করছে । মূলত শহরে বনাঞ্চল বাড়ানোর কথাই ভাবছে কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রক।
আজকের অনুষ্ঠানে শহরাঞ্চলের বন সম্পর্কে একটি বই প্রকাশ করে ‘নগর বন’ প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী শ্রী প্রকাশ জাভড়েকর। তিনি বলেন, “এই বনাঞ্চল শহরগুলির ফুসফুসের মতো কাজ করবে।প্রাথমিক ভাবে শহরে বনাঞ্চলের জায়গাগুলিতে অথবা স্থানীয় প্রশাসনের দেওয়া ফাঁকা জমিতে এই গাছগুলি লাগানো হবে। আমরা যদি প্রকৃতিকে রক্ষা করি, তবেই প্রকৃতি আমাদের রক্ষা করবে।”
এদিন পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়ের ওপর একটি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়। এখানে বন বিভাগ এবং স্থানীয় সংস্থার সঙ্গে পুনাইকারদের উদ্যোগে কিভাবে একটি পাহাড়ি ১৬.৮ হেক্টর অনুর্বর জমিকে সবুজ বনে রূপান্তর করা হয়েছিল তা তুলে ধরা হয়। এখন ২৩টি উদ্ভিদ প্রজাতি, ২৯টি পাখির প্রজাতি, ১৫টি প্রজাপতির প্রজাতি, ১০টি সরীসৃপ প্রজাতি এবং তিনটি স্তন্যপায়ী প্রজাতি সহ জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ এই বনাঞ্চলটি। ‘ওয়ারেজ’ নামের এই শহর বনাঞ্চলটি এখন দেশের কাছে একটি রোল মডেল।
ভারতীয় সংস্কৃতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আরও বলেন, “ভারত সম্ভবত একমাত্র দেশ যেখানে গাছের উপাসনা করা হয়। এখানে প্রাণী, পাখি এবং সরীসৃপ পুজো করা হয়। এটিই পরিবেশের জন্য ভারতীয় সমাজের পক্ষ থেকে যথাযথ সম্মান প্রদর্শন। এই সম্মান প্রদর্শন আমরা যুগে যুগে করে আসছি। আমরা অতি প্রাচীনকাল থেকেই গ্রামীণ বনাঞ্চলের ঐতিহ্যকে গুরুত্ব দিয়ে এসেছি। শহরাঞ্চলে উদ্যান রয়েছে, তবে সেখানে বনাঞ্চল খুবই কম।।এখন শহুরে বনের জন্য এই নতুন প্রকল্পটি সেই শূণ্যস্থান পূরণে সাহায্য করবে। এই নগর বনাঞ্চল কর্মসূচি অতিরিক্ত কার্বন শোষণে সাহায্য করবে।”
এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রকের কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। তিনি বলেন, মাটির অবক্ষয়, নদীতে পলি জমা সহ বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
এছাড়া আজ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন রাষ্ট্রসঙ্ঘের মরুভূমি প্রসার রোধ অধিবেশনের কার্যকরী অধিকর্তা ইব্রাহিম থিয়াও এবং রাষ্ট্রসঙ্ঘের পরিবেশ বিষয়ক কর্মসূচি’র অধিকর্তা ইঙ্গার অ্যান্ডারসন।





