শুক্রবার সকাল ৯টায় জাতির উদ্দেশ্যে নিজের মনের কথা তুলে ধরেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি অনুরোধ করেছিলেন সবাই যেন নিজের বাড়িতে সব বৈদ্যুতিক বাতি নিভিয়ে দিয়ে রবিবার ৯ মিনিটের জন্য রাত ৯ টায় বাড়ির বারান্দায়, দরজায় বা ছাদে মোমবাতি, প্রদীপ, টর্চ বা মোবাইলের আলো জ্বালিয়ে করোনার বিরুদ্ধে একতা প্রদর্শন করেন।
তবে কাল যা ঘটল তা কি নিছকই অনুরোধ নাকি চলল খবরদারি? টুইটে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র লিখেছেন, রবিবার রাতে পড়ুয়ারা প্রদীপ কিংবা মোমের আলো হাতে তুলে ধরেছেন কি না, তা সোমবার সকাল ৯টার মধ্যে জানাতে বলা হয়েছে সমস্ত স্কুলকে। এই জন্য আবার ইন্টারনেট মারফত বাড়ি বাড়ি ফর্ম পাঠাচ্ছে অনেক স্কুল।
Caution- Big Brother Watching!
MHRD asks all schools to report by 9am 6/4 if all students lit candles/ Diyas at 9pm on 5/4.
Forms been sent by schools to parents to file & report.
Teachers will compile info & pass on to MHRD. #ItsAPandemicNotDiwali pic.twitter.com/R6zUTPERr6
— Mahua Moitra (@MahuaMoitra) April 5, 2020
মহুয়ার কটাক্ষ, “সাবধান! বড়দা কিন্তু নজর রাখছেন!” প্রশ্ন তুলেছেন সিপিএম নেতা সীতারাম ইয়েচুরিও। আলো জ্বালানোর এই পরিকল্পনা স্কুলে স্কুলে চিঠি পাঠিয়ে বলা হয়েছে। আর শুধু আলো নয় পাশাপাশি এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে প্রথমে ‘আরোগ্য সেতু’ অ্যাপ তারপর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে আয়ুষ মন্ত্রকের জারি করা আয়ুর্বেদিক টোটকার প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন।
চিঠির বয়ানে যদিও ‘জ্বালাতে পারেন’ লেখা ছিল কিন্তু তারপরও যে ভাবে কেন্দ্র নজরদারির জন্য প্রতি বাড়ি থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে চাইছে, প্রশ্ন উঠেছে তা নিয়েই। তবে আইসিএসসি বোর্ডের তরফে জানানো হয়েছে তাদের স্কুলগুলিতে এমন কোনও নির্দেশ আসেনি। মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক দাবি করেছেন, স্কুলে স্কুলে যে চিঠি পাঠানো হয়েছে তা মূলত অ্যাপটি ডাউনলোড করার পদ্ধতি জানাতে। তার সাথে দীপ জ্বালানোর বিষয় কিছু নেই আর জোরও করা হয়নি।
করোনা সংক্রমন রুখতে ক্লাসঘরে তালা ঝুলছে। কিন্তু তাতে যেন প্রদীপ জ্বালানোয় কোনো খামতি না থাকে, তা নিশ্চিত করতে ‘অনুরোধ’ এসে পৌঁছেছে বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও।
যেমন, লকডাউনে হস্টেলে আটকে থাকা পড়ুয়াদের প্রদীপ কিংবা বাতি জ্বালানোর অনুরোধ জানিয়েছেন জেএনইউয়ের উপাচার্য এম জগদীশ কুমার, জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নাজমা আখতারও। তবে যাদবপুর ও বারাসত রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের তেমন কোনও নির্দেশ আসেনি।
জেএনইউয়ের ছাত্র সংসদ জেএনইউএসইউয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট সাকেত মুনের কটাক্ষ, “সারা বিশ্ব যেখানে বিজ্ঞানভিত্তিক পথে হেঁটে করোনার সঙ্গে লড়াইয়ের পথ খুঁজছে, বাড়াচ্ছেন নিজেদের স্বাস্থ্য-পরিকাঠামো, সেখানে প্রধানমন্ত্রী আলো জ্বালানো-নেভানোর পথ খুঁজেছেন। এতে কি করোনা দূরীকরণ হয়ে যাবে?”
আর জামিয়ার এক পড়ুয়ার মতে, “প্রধানমন্ত্রীর এখন উচিত দরিদ্র, দিনমজুর, কয়েকশো কিলোমিটার হেঁটেও বাড়ির পথ ধরা কর্মীর আর্থিক কষ্ট দূর করার চেষ্টা করা। তাদের ক্ষুধার্থ মুখে দুটোয় অন্ন তুলে দেওয়া। মানুষের ঘরে খাবার নেই তারা কি প্রদীপ জ্বালাবে। প্রধানমন্ত্রীর এগুলো ভাবা উচিত।”






