ধিক্কার! স্ত্রী নাকি মানসিকভাবে অসুস্থ, তাই ১ বছরেরও বেশি সময় আটক শৌচাগারে!

ভারতবর্ষ এখন নিজেকে আধুনিকতার মোড়কে মুরছে। ‘নিউ ইন্ডিয়া’ আ‌ওয়াজ উঠেছে। সহ্য হচ্ছে সমাজ। কিন্তু ভারতীয় নারীদের ছবিটা কি এই দেশে ২১ শতকে দাঁড়ায়েও একটু‌ও বদলেছে? উত্তর নেই‌! পুরুষশাসিত এই সমাজে এখন‌ও মেয়েদের রাতে এক বাড়ি ফেরার হলে ভয় হয়। ধর্ষণের শিকার হতে হবেনা তো?

সে রাজ্য বিজেপি শাসিত হোক বা কংগ্রেস বা তৃণমূল নারী নির্যাতনে পিছিয়ে নেই কোন‌ও রাজ্য‌ই। খুন, শ্লীলতাহানি, ধর্ষণ ভারতীয় নারী সমাজের নিত্য ঘটনা। আমাদের দেশে নারী নির্যাতন ঠিক কতটা প্রকট পাশের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল হরিয়ানার একটি ঘটনা। স্ত্রী নাকি মানসিকভাবে অসুস্থ এই অপরাধেবিয়ে করা ব‌উকে দীর্ঘ ১বছর ধরে বাড়ির শৌচাগারে বন্দি করে রাখার অভিযোগ উঠল স্বামীর বিরুদ্ধে। আজ রিষপুর গ্রাম থেকে মহিরা সুরক্ষা দলের প্রধান ও তাঁর দলবল রীতিমত অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করেছে নির্যাতিতা ওই মহিলাকে। নাম রজনী গুপ্ত।

নির্যাতিতার মহিলার স্বামী দাবি করেছেন তার স্ত্রী অর্থাৎ রজনী দেবী মানসিকভাবে অসুস্থ। তাঁকে ঘরে থাকতে বললেও তিনি নাকি রাজি হতেন না। শৌচাগারেই দিনরাত পড়ে থাকতেন। একাধিকবার চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গিয়েও কোনও লাভ হয়নি বলেও জানিয়েছেন নির্যাতিতার স্বামী। যদিও উদ্ধারকারী জানিয়েছেন রজনী মানসিকভাবে অসুস্থ কিনা তা এখনও স্পষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। তবে নির্যাতিতা মহিলা দীর্ঘ দিন অভুক্ত থাকায় বর্তমানে শারীকভাবে দুর্বল। তাঁকে উদ্ধারের পর ভালো করে স্নান করানো হয়েছে। পরিষ্কার জামাকাপড়ও পরানো হয়েছে।

উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন তিনি বেশ কয়েকদিন আগেই তারা তথ্য পেয়েছিলেন যে মহিলাকে তাঁর স্বামী বন্দি করে রেখেছেন। সবকিছু খতিয়ে দেখে তারপরই দলবল নিয়েই তিনি রজনীকে উদ্ধার করতে এসেছিলেন।

স্ত্রীকে শৌচাগারে আটকে রাখার অভিযোগে ইতিমধ্যেই নির্যাতিতার স্বামী নরেশ গুপ্তকে আটক করেছে পুলিশ। পুরো ঘটনা তদন্ত করে দেখা হবে বলেও জানান হয়েছে। অন্যদিকে সরকারি প্রোটোকল মেনেই রজনীর বিষয়ে আগামী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও জানান হয়েছে। তবে প্রথমেই উদ্ধার হওয়ার মহিলার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান হয়েছে প্রশাসনের তরফ থেকে।

RELATED Articles