গত ২৮ শে মার্চে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী করোনা মোকাবিলায় পিএম কেয়ার ফাউন্ডেশন তৈরি করেন। যেখানে তিনি দেশবাসীর কাছে তাদের যথাসাধ্য আর্থিক সাহায্য চান। অন্যদিকে এই ফান্ড তৈরির পর থেকেই দুর্নীতির অভিযোগ তুলতে থাকে সমস্ত বিরোধী পক্ষ। বিরোধীরা বার বার পিএম কেয়ারস ফান্ড এর জন্য মোদীকে তীব্র আক্রমণ করতে থাকেন। আজ সেই সমস্ত কটুক্তির জবাব স্বরূপ সবাইকে চমকে দিয়ে “পিএম কেয়ারস” (PM CARES) তহবিলের সমস্ত হিসাবের তথ্য-প্রমাণসহ হিসেব তুলে ধরল মোদি সরকার।
প্রাক্তন কেন্দ্রীয় অর্থ প্রতিমন্ত্রী জয়ন্ত সিনহা, বিজেপি নেতা বিএল সন্তোষ ও কেন্দ্রীয় বিজেপির মুখপাত্র সম্বিৎ পাত্র আজ প্রধানমন্ত্রীর পি এম কেয়ারস তহবিলের সমস্ত তথ্য প্রমান ও পরিসংখ্যান মানুষের সামনে তুলে ধরেন। এছাড়াও তাঁরা বলেছেন, গত ৭৩ বছরে সারা দেশে মাত্র ৪৮ হাজার ভেন্টিলেটারই ছিল। কিন্তু এবার “পিএম কেয়ারস ফান্ডে”র দৌলতে মাত্র কিছুদিনের মধ্যেই ভেন্টিলেটরের সংখ্যা ৫০ হাজার বাড়তে চলেছে।
https://twitter.com/sambitswaraj/status/1272428802979872769
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে আত্মনির্ভর হওয়ার কথা বলেছিলেন। এবার সেই স্বদেশী শক্তিকেই দেশের সেবায় কাজে লাগালেন তিনি। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্পের আওতায় ৫০,০০০ ভেন্টিলেটর নির্মাণ করা হয়েছে।
বিজেপি নেতাদের দাবি দেশে স্বদেশী শক্তি বৃদ্ধির সাথে দেশে উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধিতে জোর দিচ্ছে মোদি সরকার। এই সমস্ত ভেন্টিলেটরই স্বদেশী প্রযুক্তিতে নির্মাণ করা হয়েছে। সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর ‘লোকাল ইজ ভোকাল’ স্লোগানকে সফল করতেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
কিছুদিন আগে কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি রাহুল গাঁধী “পিএম কেয়ারস ফান্ডে”র অর্থের বিষয় প্রশ্ন তুলেছিলেন এবং হিসেবও দাবি করেছিলেন। তার অভিযোগ ছিল, দেশবাসীর কাছ থেকে বিপুল অর্থ সংগ্রহ করে প্রধানমন্ত্রী কেন তহবিলের হিসাব তাদের দিচ্ছেন না?
তবে শুধু ভেন্টিলেটর নয় দেশের শ্রমিকদের উদ্দেশ্যেও ১০০০ কোটি টাকা নির্দিষ্ট করলেন প্রধানমন্ত্রী কেয়ারস তহবিল থেকে। দেশে করোনা প্রতিষেধক আবিষ্কারের গবেষণার জন্যেও ১০০ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে তহবিল থেকে।
মোট ভেন্টিলেটরের যে পরিসংখ্যান কেন্দ্রের তরফে পাওয়া গেছে তা থেকে দেখা যাচ্ছে দেশের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ১৭,৮৫০ গুলি ভেন্টিলেটর এবং বেসরকারী হাসপাতালে ২৯,৬৩১ গুলি ভেন্টিলেটর ছিল। সর্বসাকুল্যে দেশে এতদিন অবধি ৪৭,৪৮১ গুলি ভেন্টিলেটর ছিল। আজকের ঘোষণার পর আরো ৫০,০০০ নতুন ভেন্টিলেটর যুক্ত হবে এই তালিকায়। তার ফলে দেশে ভেন্টিলেটরের সংখ্যা এক লাখের কাছাকাছি পৌঁছে যাবে। এই ভেন্টিলেটরগুলির জন্য খরচ পড়ছে মোট ২ হাজার কোটি টাকা। তবে নিঃসন্দেহে এই ভেন্টিলেটরগুলি অনেক মুমূর্ষু রোগীর প্রাণ বাঁচাবে আগামী দিনে।





