দেশের অগ্রগতির লক্ষ্যে এমএসএমই-গুলির সহায়তায় নতুন পোর্টাল ‘চ্যাম্পিয়নস’ চালু করলেন প্রধানমন্ত্রী

দেশকে আরও একধাপ অগ্রগতির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে পা বাড়ালেন দেশের প্রধানমন্ত্রী। দেশের জাতীয় শক্তি ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে নরেন্দ্র মোদী আজ উদ্বোধন করলেন একটি নতুন পোর্টাল ‘চ্যাম্পিয়নস’। আজকের অনুষ্ঠানে এমএসএমই, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়কমন্ত্রী শ্রী নীতিন গড়কড়িও উপস্থিত ছিলেন। ডিজিটাল ভারত গড়ার লক্ষ্যে আধুনিক প্রক্রিয়া ও সৃজনশীলতার ভিত্তিতে এটি কাজ করবে।

নামটি থেকেই বোঝা যাচ্ছে, পোর্টালটি মূলত ছোট সংস্থাগুলিকে সাহায্য করবে। তাদের অভিযোগের সমাধান দিতে, তাদের উৎসাহ ও সমর্থন প্রদান করবে। এটি এমএসএমই (MSME) মন্ত্রকের ‘ওয়ান-স্টপ-শপ’ অর্থাৎ যাবতীয় কাজ একইসঙ্গে একই প্ল্যাটফর্মে করে দেবে।

বর্তমান করোনা জর্জরিত এই ভারতের অর্থনীতি প্রায় মুখ-থুবড়ে পড়েছে। এমতাবস্থায় দেশের মাঝারি, ছোটো ও ক্ষুদ্র শিল্পের ক্ষেত্রে সাহায্যের খুবই প্রয়োজন। সেই কথা মাথায় রেখেই এই আইসিটি ভিত্তিক ব্যবস্থা নিলো কেন্দ্র। এমএসএমই-গুলিকে সাহায্য করে তাদের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যেই এই অভিনব উদ্যোগ।

এবার দেখে নিন চ্যাম্পিয়নসের বিস্তারিত কার্যাবলী:

১)অভিযোগের সমাধান: বর্তমান পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে করোনা সংক্রামিত দেশে অর্থ, কাঁচামাল এবং শ্রমিকসহ ও নানা ক্ষেত্রে নানাবিধ অনুমতির যে সমস্যার সৃষ্টি হয় সেগুলো সমাধান করা।

২) নতুন সুযোগ দেওয়া: এমএসএমই-গুলিকে চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং পিপিই, মাস্ক প্রভৃতি জিনিসের মতো অত্যাবশ্যক বস্তু উৎপাদন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে সেগুলি সরবরাহের ক্ষেত্রে সহায়তা দান।

৩) প্রধান ক্ষেত্রগুলি চিহ্নিত করে তাদের উৎসাহ প্রদান: অর্থাৎ যেসব এমএসএমই বর্তমান সংকট পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়েও কাজ করতে সক্ষম তাদেরকে আরও উৎসাহ দেওয়া, যাতে তারা জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক স্তরে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নিজেদের প্রকাশ করতে পারে।

এটি একটি প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রিত কন্ট্রোল রুম-কাম-ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম। টেলিফোন, ইন্টারনেট এবং ভিডিও কনফারেন্স সহ আইসিটি সরঞ্জামগুলির পাশাপাশি এই ব্যবস্থাটিকে আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স, ডেটা অ্যানালিটিক্স এবং মেশিন লার্নিং এর মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে। এটিকে ভারত সরকারের মূল অভিযোগ গ্রহণকারী পোর্টাল সিপিজিআরএমএস এবং এমএসএমই মন্ত্রকের অন্যান্য ওয়েবসাইটের সাথে যুক্ত করা হয়েছে। পুরো আইসিটি প্রক্রিয়াটি বিনা খরচে এনআইসির সহায়তায় দেশেই তৈরি করা হয়েছে। একইভাবে, রেকর্ড সময়ের মধ্যে মন্ত্রকের একটি অব্যবহৃত ঘরে এটির পরিকাঠামো তৈরী করা হয়েছে।

এই সিস্টেমের অংশ হিসেবে একটি হাব ও স্পোক মডেলে কন্ট্রোল রুম নেটওয়ার্ক তৈরি করা হয়েছে। হাবটি, নয়াদিল্লিতে এমএসএমই-র সচিবের দপ্তরে রাখা হয়েছে। রাজ্যগুলির এমএসএমই মন্ত্রকের বিভিন্ন দপ্তরে স্পোকগুলি রয়েছে। এখন পর্যন্ত রাজ্য স্তরের নিয়ন্ত্রণ ৬৬টি কক্ষ তৈরি করে সেগুলিকে কাজের জন্য প্রস্তুত করে তোলা হয়েছে। এগুলি চ্যাম্পিয়নের পোর্টাল ছাড়াও ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সংযুক্ত রয়েছে। আধিকারিকদের কাছে একটি বিস্তৃত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং পদ্ধতি (এসওপি) দেওয়া রয়েছে এবং কর্মীদের এই অপারেশনের প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে।

RELATED Articles

Leave a Comment