একটু তো খাবার আর জলই চেয়েছিল ওরা, পরিবর্তে কি পেল অসহযোগিতা? অথচ ভোট ব্যাঙ্ক ভরতে এদের চাহিদা প্রবল। সরকার ওদের কথা দিয়েছিল বাড়ি ফেরানোর, কিন্তু সবই যেন কথার কথা। করোনা রুখতে একদিন হঠাৎ করেই এক লহমায় স্তব্ধ হয়ে গেল গোটা ভারত। পয়সা নেই, খাবার নেই এমনকি মাথার ছাদ তাও চলে গেল। এরপর নিজেদের বাড়ি ফিরতে চেয়ে ওরা বারবার অনুরোধ করেছে। ওই তরফ থেকে শুধু শুকনো আশ্বাস এসেছে। তাই নিজেরাই হাঁটা শুরু করেছিল তাঁরা। কখনো প্রচন্ড পথকষ্টে, কখনও ট্রেনের ধাক্কায় আবার পথ দুর্ঘটনায় মাঝপথেই থমকে গেছে তাদের বাড়ি যাওয়ার অনন্ত যাত্রা। এবার পুলিসের লাঠিচার্জের মুখে পড়তে হল পরিযায়ী শ্রমিকদের।
হরিয়ানার যমুনাননগরে পাঞ্জাবের চণ্ডীগড় থেকে আসা পরিযায়ী শ্রমিকদের রাস্তা থেকে সরাতে লাঠি চালালো পুলিশ। মধ্যপ্রদেশের রেওয়া-তেও এই একই ঘটনা ঘটেছে।
পরিযায়ী শ্রমিকরা কেউ খাবারই পাচ্ছেন না। খিদের জ্বালায় তাঁরা জাতীয় সড়ক অবরোধ করছে, জমায়েত করছে। তারা সরকারের কাছে শুধু একটু খাবারের বন্দোবস্তই তো চেয়েছিল। যাতে তাঁরাও তাদের পরিবার নিয়ে দুবেলা খেয়ে বাঁচতে পারে। অভিযোগ, পুলিশ তাদের কথা শুনতে নারাজ। তাঁরা রাস্তা থেকে জমায়েত হাটাতে লাঠিচার্জ করতে শুরু করে। সম্প্রতি পুলিসের লাঠির আঘাতে এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু পর্যন্ত হয়েছে বলেও জানা যায়।
কিন্তু প্রশ্ন হল, পুলিশ ওদের প্রতি এত কড়া লাঠিচার্জ কেন করল? প্রশাসন কি ওই দুঃস্থ মানুষগুলির প্রতি একটু সহনশীল বা সহানুভূতিশীল হতে পারে না? যাঁরা শুধু বাড়ি ফেরার আশায় খালি পেটেও মাইলের পর মাইল হাঁটছেন, তাঁদের বিক্ষোভ সরাতেও কি লাঠিচার্জের প্রয়োজন? প্রশ্ন উঠেছে নানা মহলে। কিন্তু উত্তর কি?





