ভূমিপুত্র সংরক্ষণ আইন চালু করার দাবিতে সরব বাংলা পক্ষ। মুখ্যমন্ত্রীকে খোলা চিঠি এই বাঙালি জাতীয়তাবাদী সংগঠনের!

বাংলায় বাঙালির থেকে অন্য জাতির জোর বেশি এই কথা সর্বজনবিদিত। লক ডাউনের সময় এখন আখের গোছাতে ব্যস্ত সব রাজ্য‌ই। প্রায় সমস্ত রাজ্যেই চাকরি- ঠিকা কাজ – টেন্ডার সমস্ত কিছুতেই নিজের রাজ্যের নাগরিকদের অগ্রাধিকার দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু এখন বাংলার চিত্রটা ঠিক কেমন?

এই সময় ভিন রাজ্যে আটকে থাকা বাংলার শ্রমিকরা রয়েছে সংকটে, গুজরাটে পুলিশ বাংলার শ্রমিকদের মারছে, উত্তর প্রদেশে বাঙালি শ্রমিকরা পথ দুর্ঘটনার শিকার হয়ে মারা যাচ্ছে। এবার দেখুন খাস কলকাতার ছবি। কলকাতার মোট হাসপাতালের সংখ্যা ৬৮ তার মধ্যে বেসরকারি হচ্ছে ৫২ টি। আর এই বেশির ভাগ হাসপাতালের নার্স হচ্ছেন ভিন্ রাজ্যের বাসিন্দা। নিজেদের রাজ্যে স্বাস্থ্য পরিষেবার হাল ধরতে কলকাতার বেসরকারি হাসপাতাল গুলো থেকে শয়ে শয়ে নার্স ইস্তফা দিয়ে নিজের রাজ্যে ফিরে যাচ্ছেন। অর্থাৎ মহাবিপদে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা। অন্য সময় তাঁরা এখানে আয় করল, এখন বিপদে ছেড়ে পালাচ্ছে। বাংলায় এখানকার বাঙালি নার্সরা আজ চাকরি পেলে এই পরিস্থিতি দাঁড়াতো না, মত বিশেষজ্ঞদের।

এই মর্মে সরব হয়েছে বাংলার জাতীয়তাবাদী সংগঠন বাংলা পক্ষ। সব রাজ্যই যখন ঘর গোছাচ্ছে, বাংলারও এখন এক‌ই কাজ করা উচিত। কয়েকদিন আগেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, তিনি বাংলার শ্রমিকদের বাংলাতেই কাজ দেবেন। কিন্তু কিভাবে? বাংলা পক্ষর দাবি, সব চাকরি- ঠিকা কাজ- টেন্ডার- লাইসেন্স – হকারি স্পটে কমপক্ষে ৯০% ভূমিপুত্র সংরক্ষণ আইন চালু করাই এখন একমাত্র পথ।

ভূমিপুত্র সংরক্ষণ আইন চালু করার দাবিতে সরব বাংলা পক্ষ। মুখ্যমন্ত্রীকে খোলা চিঠি এই বাঙালি জাতীয়তাবাদী সংগঠনের!

ভূমিপুত্র সংরক্ষণ আইন চালু করার দাবিতে সরব বাংলা পক্ষ। মুখ্যমন্ত্রীকে খোলা চিঠি এই বাঙালি জাতীয়তাবাদী সংগঠনের!

এটা বাংলা পক্ষর দীর্ঘ দিনের দাবিও। সংগঠনের মতে, লক ডাউন শেখাচ্ছে বাংলা পক্ষের দাবি কতটা যুক্তিযুক্ত। সংগঠনের ফেসবুক পেজ থেকে নিজেদের বক্তব্য জানিয়ে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীকে খোলা চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে তাঁরা কি লিখেছেন দেখে নিন..

“ভূমিপুত্র সংরক্ষণের দাবিতে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীকে খোলা চিঠি
মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী,
লক ডাউন চলছে, নানা রাজ্যে আমাদের শ্রমিকরা আটকে আছে। আমাদের রাজ্যেও অন্য রাজ্যের শ্রমিকরা আটকে আছে। একমাত্র কেরালা বাংলার শ্রমিকদের জন্য সুবন্দোবস্ত করেছে, অন্যান্য কয়েকটা রাজ্য টুকটাক করেছে, আর বেশিরভাগ রাজ্যে বাঙালি অনাহারে ও কষ্টে থেকেছে, কেউ এগিয়ে আসেনি। কিন্তু আমাদের রাজ্যে সরকারি ক্যাম্পে বহাল তবিয়তে আছে কয়েক লাখ বহিরাগত শ্রমিক। এমনকি আমাদের সরকার সরকারি বাসে তাদের বাড়ি ছেড়ে আসছে। আবার বাড়ি ছাড়তে গিয়ে বাস উধাও করে দিয়েছিল, আক্রান্ত হয়েছে চালকরা৷ সে ঘটনার কথা সকলেই সংবাদমাধ্যমে দেখেছে।

অন্যদিকে গুজরাটে পুলিস বাঙালি শ্রমিক পেটাচ্ছে। উত্তর প্রদেশে কোনো সাহায্য পায়নি বাংলার শ্রমিকরা। পথ দুর্ঘটনায় অনেককে শেষ করে ফেলা হয়েছে। রাজ্যে রাজ্যে সমস্যায় বাংলার শ্রমিকরা।

করোনা মহামারী আটকাতে সবথেকে সামনে থেকে লড়ছে নার্সরা। অন্য রাজ্যের অনেক নার্স বাংলার নানা বেসরকারি হাসপাতালে কাজ করে। তাদের রাজ্যে এখন নার্স প্রয়োজন, সবাই গণ ইস্তফা দিয়ে নিজের রাজ্যে, নিজের সরকারের হয়ে কাজ করবে বলে ফেরত যাচ্ছে। পথে বসছে বাংলার বেসরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা। এই জায়গাগুলোয় বাংলার নার্সরা থাকলে আজ এই বিপদে এমন অনভিপ্রেত সংকটে পড়তে হতো না।

বাংলায় নানা জায়গায় চাকরি- কাজ আছে। সেগুলো বাঙালি শ্রমিকরা পায় না। বাঙালিকে চাকরিতে নেওয়া হয় না। বাঙালি নিজের রাজ্যেই বঞ্চিত। অথচ অন্যান্য সব রাজ্য নিজের মানুষের স্বার্থ প্রথম দেখে। বাংলায় চাকরি আছে, বাঙালির নেই। বাংলায় টাকা আছে, বাঙালির নেই। কিন্তু এই বাংলা বাঙালির মূল ঘাঁটি। এই বাংলা ভাষার ভিত্তিতে তৈরি রাজ্য, এ রাজ্যে ৮৬% মানুষ বাঙালি।

লক ডাউন নতুন করে শিক্ষা দিচ্ছে, রঙ চেনাচ্ছে। বিপদের সময়ের সঙ্গী চেনাচ্ছে। প্রতিটা রাজ্যই নিজের মানুষের জন্য ভূমিপুত্র সংরক্ষণ করছে। বেসরকারি চাকরি- ঠিকা কাজ – টেন্ডার- লাইসেন্স – হকারি স্পটে ভূমিপুত্র সংরক্ষণ করছে, অনেক রাজ্যেই তা ইতিমধ্যেই আইনে পরিনত হয়েছে। বাংলাতেও কমপক্ষে ৯০% ভূমিপুত্র সংরক্ষণ সময়ের দাবি।

মহাশয়া, আপনি কদিন আগেই বলেছেন বাংলার শ্রমিকদের বাংলাতেই কাজ দেবেন। এই ঘোষণা কে কার্যকর করার মূল পথই হল ভূমিপুত্র সংরক্ষণ। বাঙালির জন্য এই বাংলা ছাড়া কোনো জায়গা নেই। তাই এই বাংলার মাটি সহ সব কিছুর প্রথম অধিকার বাঙালি সহ সকল ভূমি সন্তানের।

আপনার ঘোষণা কার্যকর করুন, আবেদন জানাই। সব স্কুলে বাংলা বাধ্যতামূলক করার ঘোষণা করেও কার্যকর না করার মতো অবস্থা এক্ষেত্রে হলে বাঙালির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা হবে।”

RELATED Articles

Leave a Comment