এবার থেকে করোনা পরীক্ষা হবে পুল স্যাম্পেল পদ্ধতিতে। পরামর্শ আইসিএমআর-এর; জানেন কী এই পুল স্যাম্পেল?

করোনাভাইরাসের টেস্ট কিটের আকাল বিশ্বজুড়ে। বলাই বাহুল্য ভারতেও ১৩০ কোটি মানুষের প্রত্যেকের জন্য মাথা পিছু টেস্ট কিট জোগান দেওয়া অসম্ভব। তাই এবার খরচ কমাতে পুল স্যাম্পেল টেস্টিংয়ের সাহায্য নিতে চলেছে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ। এমন পরীক্ষারই পরামর্শ দিয়েছে তারা। এর ফলে কম সংখ্যক টেস্টিং কিটেই দেশের সিংহভাগ মানুষের নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব হবে বলে মত তাঁদের।

কী এই পুল স্যাম্পেল পদ্ধতি? সহজ ভাষায় বললে, প্রতিটি স্থানে নির্ধারিত সংখ্যক মানুষ পিছু একজনের নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। অর্থাৎ, ধরুন কোনও পরিবারে ৫ জন সদস্য আছেন। সেই ৫ জনকে ‘পুল’ হিসাবে ধরা হবে। সেখানে ৫ জনের মধ্যে ১ জন প্রতিনিধির নমুনা পরীক্ষা করা হবে। তাঁর এই নমুনা হবে তাঁর ‘পুল স্যাম্পেল’। তাঁর নমুনা পরীক্ষার রেজাল্ট যদি নেগেটিভ আসে, সে ক্ষেত্রে ধরে নেওয়া হবে পরিবারের বাকি সদস্যরাও করোনাভাইরাস আক্রান্ত হননি। এর ফলে বাকি COVID-19 নেগেটিভ সদস্যদের জন্য যে টেস্ট কিট খরচ হত, তা বেঁচে যাবে।

অন্যদিকে, কোনও এমন প্রতিনিধির নমুনা পরীক্ষায় পজিটিভ আসে, সেক্ষেত্রে তাঁর পরিবারের বাকি সদস্যদেরও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকবে। তখন দ্বিতীয় ধাপে পরিবারের বাকি সদস্যদের করোনা পরীক্ষা করা হবে। তবে ঠিক কতজনের মাথাপিছু একজনকে পুল স্যাম্পেল বা গোষ্ঠী নমুনা হিসাবে বাছা হবে, সে বিষয়ে কোনও বাঁধাধরা কোনও নিয়ম না থাকলেও সংখ্যাটা ৫-এর বেশি করতে চায় না ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ।

এবার প্রশ্ন উঠতে পারে, কোনও একটি পুলের স্যাম্পেল দিচ্ছেন এমন এক ব্যক্তি, যাঁর হয়তো করোনাভাইরাস নাও থাকতে পারে। কিন্তু তাঁর পরিবারের অন্য কেউ কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত থাকতেও পারে সেক্ষেত্রে আইসিএমআর-এর নীতি, যে সকল স্থানে করোনাভাইরাস আক্রান্তের হার ৫%-এরও বেশি, সেই স্থানগুলিতে এই পদ্ধতি প্রয়োগ করা উচিৎ নয়।

RELATED Articles

Leave a Comment