লকডাউনের মধ্যে বিদ্যুৎ মন্ত্রকের সিদ্ধান্ত: বিল মেটানোর সময়সীমা অতিক্রান্ত হলেও দিতে হবে না কোনো ফাইন

দেশজুড়ে করোনা সংক্রমন রুখতে চলছে ২১ দিনের লকডাউনের পরিস্থিতি। আর এর জন্য বন্ধ বহু অফিস, আদালত, কারখানা, রেল, মেট্রো ইত্যাদি। যার জন্য বিদ্যুতের চাহিদা অনেকখানি কমেছে। এছাড়াও মানুষের বিদ্যুতের বিল মেটাতেও সমস্যা হচ্ছে। ফলে ঘাটতি দেখা দিচ্ছে অর্থে। সেই দিকে নজর রেখেই বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থাগুলি (DISCOM) আগামী তিন মাসের জন্য আর্থিক ছাড় দেওয়ার ঘোষণা করল বিদ্যুৎ মন্ত্রক।

আগামী ৩১শে মার্চ পর্যন্ত DISCOM সংস্থাগুলির সিকিউরিটি মানি জমা করার ক্ষেত্রে ৫০% ছাড় দেওয়া হল। বিদ্যুত্ সরবরাহের ক্ষেত্রে যাতে সংস্থাগুলি কোনো প্রকার সমস্যায় না পড়ে তাই এই পদক্ষেপ। সাধারণত সময় সীমার পরে টাকা জমা দিলে ফাইন দিতে হত। কিন্তু আগামী ৩ মাস টাকা জমা দেওয়ায় দেরি হলেও কোনো ফাইন হবে না এমনকী সারচার্জও লাগবে না বলে ঘোষণা করা হয়েছে।

লকডাউন পরিস্থিতিতে জরুরীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো চালানো হচ্ছে। যাতে কোনও ভাবে কোনো জায়গায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত না হয়। ইতিমধ্যেই কেন্দ্র ও রাজ্যের বিদ্যুত্ সরবরাহ নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলিকে এ বিষয়ে নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। সাধারণ মানুষের বিদ্যুৎ-এর ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছেন বিদ্যুৎ মন্ত্রক।

অল ইন্ডিয়া পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান শৈলেন্দ্র দুবে জানান, দেশের প্রায় সব রাজ্যেই বিদ্যুতের চাহিদা ২০-৩০% কমে গেছে। রেল, কল-কারখানা, অফিস ইত্যাদি বাণিজ্যিক চাহিদা প্রায় নেই বললেই চলে। তাছাড়া বিল সংগ্রহও কমেছে এক ধাক্কায় ৮০%। অনেক মানুষ অনলাইনে বিল মেটাতেও স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না এই পরিস্থিতিতে তারাও বিল জমা দিতে বিভ্রান্ত। মিটার রিডিংএও এখন বাড়ি বাড়ি কেউ আসছে না। ফলেও সমস্যার সৃষ্টি। তাই সব সমস্যা এড়াতে এই সিদ্ধান্ত জারি করেছে বিদ্যুৎ মন্ত্রক।

আরও অন্যান্য খবর