সাল ২০১৯-এ অসংগঠিত ক্ষেত্রের কর্মীদের কথা মাথায় রেখে ‘প্রধানমন্ত্রী শ্রমযোগী মানধন যোজনা’ (Pradhan Mantri shram Yogi Maan-Dhan Yojana) চালু করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। সেই প্রকল্পের আওতায় ৬০ বছরের উর্ধ্বে মাসিক কমপক্ষে ৩,০০০ টাকা পর্যন্ত পাওয়া যাবে।কিন্তু এই প্রকল্পে আবেদনের জন্য নির্দিষ্ট কিছু যোগ্যতা ও নিয়মাবলী রয়েছে। চলুন এক নজরে দেখে নেওয়া যাক-
এই প্রকল্পে আবেদনের জন্য যোগ্যতার ক্ষেত্রে লাগছে-
১) আবেদনকারীকে অবশ্যম্ভাবী অসংগঠিত ক্ষেত্রে কর্মরত হতে হবে।
২) মাসিক আয়ের ক্ষেত্রে আর্থিক সীমা ১৫,০০০ টাকা বা তার কম হতে হবে।
৩) সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা মহিলা আয়কর দেন না।
৪) জাতীয় পেনশন প্রকল্প, এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড প্রকল্প বা এমপ্লয়িজ স্টেট ইনসিওরেন্স কর্প স্কিমের মতো কোনও প্রকল্পের আওতায় আবেদনকারীর নাম নথিভুক্ত থাকা যাবে না।
৫) এবং আবেদনকারীর অবশ্যই ১৮-৪০ এর মধ্যে থাকতে হবে।
কীভাবে এই প্রকল্পের আওতায় নিজের নাম নথিভুক্ত করবেন ?
যোগ্যতামান থাকা উপভোক্তাদের নিজেদের নিকটবর্তী ‘কমন সার্ভিস সেন্টার’-এ যেতে হবে। ‘কমন সার্ভিস সেন্টার’-এর তালিকা এলআইসিতে পাওয়া যাবে। পেনশন অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য একটি সেভিংস বা জনধন অ্যাকাউন্ট এবং আধার কার্ডের প্রয়োজন হবে। দেশের তিন লাখের বেশি ‘কমন সার্ভিস সেন্টার’-এ সেই পরিষেবা প্রদান করা হয়।
এই প্রকল্প থেকে বেরিয়ে আসবারও বেশ কিছু পথ রয়েছে চলুন দেখে নেওয়া যাক-
১) উক্ত প্রকল্পের আওতায় আসার ১০ বছরের কম সময়ে যদি উপভোক্তা তা বন্ধ করতে চান, তাহলে শুধুমাত্র তাঁর প্রদেয় অর্থ ফিরিয়ে দেওয়া হবে। সঙ্গে সেভিংস অ্যাকাউন্টের সুদ মিলবে হাতে।
২) উপভোক্তা যদি ১০ বছর পর এবং ৬০ বছরের বয়সের আগে এই প্রকল্প থেকে বেরিয়ে আসতে চান, তাহলে তাঁর প্রদেয় অর্থ ফিরিয়ে দেওয়া হবে। একইসঙ্গে মোট যে পরিমাণ অর্থ জমা পড়েছে, তার সুদ বা সেভিংস অ্যাকাউন্টের সুদের মধ্যে যেটি বেশি হবে, সেই টাকাও পাবেন উপভোক্তা।
এই প্রকল্প কীভাবে কাজ করে?
১৮ বছরে কোনও কর্মী যদি সেই প্রকল্পে যুূক্ত হন, তাহলে মাসিক ৫৫ টাকা দিতে হবে। একই পরিমাণ আপনার খাতে বরাদ্দ করবে কেন্দ্র। উপভোক্তার বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দেয় অর্থের পরিমাণ বাড়বে। প্রথমবার নগদে টাকা জমা দিতে হবে। সেজন্য একটি রসিদ পাবেন উপভোক্তারা। যাঁরা এই প্রকল্পে নথিভুক্ত হবেন, তাঁদের একটি ইউনিক আইডি দেওয়া হবে।
এই প্রকল্পের বৈশিষ্ট্য হলো স্বেচ্ছাকৃত পেনশন প্রকল্প। এই প্রকল্পের আওতায় নির্দিষ্ট বয়সের ভিত্তিতে কত টাকা দিতে হবে, তা ঠিক করা হয়। সেই অর্থের ৫০ শতাংশ দিতে হবে সংশ্লিষ্ট উপভোক্তাকে। বাকি ৫০ শতাংশ বহন করবে কেন্দ্র সরকার। এই প্রকল্পের আওতায় উপভোক্তার বয়স ৬০ হলেই মাসিক কমপক্ষে ৩,০০০ টাকা মিলবে। তার আগেই উপভোক্তার মৃত্যু হলে ওই ব্যক্তি বা মহিলার সঙ্গী সেই মাসিক পেনশন পাবেন।





