সাবধানী গেহলেট! টিকে থাকতে আস্থা ভোট নয়, বিধানসভা অধিবেশন ডাকার প্রস্তাব রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রীর!

পাইল‌টকে আর ল্যান্ড করতে দেবেননা রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট। তাই সমস্ত দিক ভেবেই তাঁর নিদান আস্থা ভোট নয়, সরাসরি বিধানসভা অধিবেশন ডাকা হোক। রবিবার রাজ্যপাল কলরাজ মিশ্রের কাছে এহেন প্রস্তাব পাঠিয়ে গেহলট জানিয়েছেন, বিধানসভার অধিবেশন ডাকা যেতে পারে ৩১ জুলাই থেকে। ওই অধিবেশনে রাজস্থানের করোনা পরিস্থিতি সহ একাধিক পড়ে থাকা বিল নিয়ে আলোচনা হবে। প্রস্তাবটি ভেবে দেখার কথা জানিয়েছেন কলরাজ মিশ্র। ওই প্রস্তাবে না বলার কোনও কারণ নেই রাজ্যপালের।

তবে এবার কথা হল কেন‌ও আস্থা ভোটের দাবি থেকে সরে এসে বিধানসভার অধিবেশন ডাকার কথা বলছেন গেহলট? রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রীর নতুন এই প্রস্তাবের পেছনে জটিল রাজনৈতিক কৌশল রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।এখন আস্থা ভোটে জিতলেও অশোক গেহলট স্বস্তিতে থাকতে পারবেন মাত্র ৬ মাস। আবার আস্থা ভোট হলে শচীন পাইলট ও তাঁর অনুগামী ১৮ বিধায়ক সরকারের বিরুদ্ধে ভোট দিতে পারেন। এরপর তাঁদের বিধায়ক পদ খারিজ হলেও তাদের ভোট গোনা হবে। সেক্ষেত্রে বিপাকেও পড়তে পারেন রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী।

বিধানসভার অধিবেশন ডাকার পেছনে রাজ্যের করোনা পরিস্থিতির ওপরে জোর দেওয়া হয়েছে। মনে করা হচ্ছে করোনা নিয়ে একটি অর্ডিন্যান্স জারি করতে পারেন অশোক। সেই অর্ডিন‍্যান্স জারির জন্য একটি ভোটাভুটি হতে পারে। এর জন্য দলে হুইপ জারি করা হবে। ওই হুইপ মানতে বাধ্য সচিন ও তাঁর অনুগামী বিধায়করা। তা না মানলে প্রমাণ করে দেওয়া যাবে সচিনরা দল বিরোধী কার্ষকালাপ করছেন এবাং তাঁদের বিধায়ক পদ খারিজের সুপারিশ করা হবে।

এদিকে, রাজ্যপাল গেহলটের নতুন প্রস্তাব নিয়ে বিবেচনা করছেন। অধিবেশন ডাকার কথা ৩১ জুলাই। অর্থাত্ হাতে তাঁর ৪ দিন সময়। এর মধ্যেই বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে যাবে।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার রাজস্থান হাইকোর্টের রায়ে কিছুটা স্বস্তি পান শচীন পাইলট। এদিন আদালতের তরফে বলা হয়, বিধানসভার স্পিকার সচিন ও তাঁর অনুগামী কংগ্রেস বিধায়কদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নিতে পারেন না। যদি তা নিতে হয় তাহলে স্পিকারের সাংবিধানিক ক্ষমতার সীমা প্রথমে ঠিক করতে হবে। ওই রায়েই ধাক্কা খায় গেহলট শিবির। কারণ পাইলট ও তাঁর অনুগামীদের বিধায়কপদ খারিজের নোটিস দিয়েছিলেন স্পিকার সিপি যোশী।

RELATED Articles

Leave a Comment