করোনা কোনো বায়ুবাহিত রোগ নয়, এয়ার ড্রপলেটে বাহিত হয়েই একজনের থেকে অন্যজনের শরীরে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে ভাইরাসের সংক্রমণ, বলছেন বিজ্ঞানীরা। আক্রান্ত রোগীদের ধারেকাছে যাওয়াও তাই বিপজ্জনক। চিকিৎসা করতে গিয়ে হাসপাতালে ডাক্তার-স্বাস্থ্যকর্মীরাও আক্রান্ত হচ্ছেন রোগে। এই সংকট কাটাতে এবার বৈজ্ঞানিক পন্থা নিল কেরল। স্বাস্থ্যকর্মীদের বদলে আনা হয়েছে রোবট। মানুষকে সচেতন করা থেকে শুরু করে মাস্ক, স্যানিটাইজার বিলি করা, সব কাজই এখন করছে রোবট।
কেরলের সরকারি সংস্থা ‘কেরল স্টার্টআপ মিশন (KSUM)’ এমন দু’টি রোবটকে কাজে লাগিয়েছে। হাসপাতালে সংক্রমণ সন্দেহে রোগীরা এলে তাদের আইসোলেশন ওয়ার্ডে নিয়ে যাওয়া, মাস্ক, স্যানিটাইজার বিলি করা এমনকি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে রোগীদের খাবার ও প্রয়োজনীয় জিনিস পৌঁছে দেওয়ার কাজও করছে এই রোবট-কর্মীরা।
কংগ্রেস সাংসদ শশী তারুর এই ভিডিও টুইটারে পোস্ট করেছেন। সেখানেই দেখা গিয়েছে লোকজনের মধ্যে মাস্ক বিলি করছে দু’টি রোবট। এই রোবট দুটি বানিয়েছে অ্যাসিমভ রোবোটিক্স।রোবট দুটি বর্তমানে কাজ করছে কেরল স্টার্টআপ মিশনের কমপ্লেক্সে। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, এই রোবটদের ডেটা সিস্টেমে প্রয়োজনীয় তথ্য ভরে দেওয়া আছে। কীভাবে রোগীদের পরিচর্চা করতে হবে, বাইরে থেকে আসা লোকজনকে মাস্ক দিতে হবে সবই করতে পারছে রোবট-কর্মীরা। করোনা ভাইরাস নিয়ে সচেতনতার পাঠ দিতেও কাজে লাগানো হয়েছে রোবট দুটিকে। আগামী দিনে এমন আরও রোবট নামানো হবে বলে জানিয়েছে অ্যাসিমভ রোবোটিক্স।
উহানের বিভিন্ন হাসপাতালেও কাজ করছে ডাক্তার-রোবটরা। কীভাবে রোগীদের আইসোলেশনে নিয়ে যেতে হবে, সেখানে কী কী করণীয়, কেমন ভাবেই বা হবে চিকিৎসা, সব শিখিয়ে পড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এই রোবটদের। সংক্রমণ কতটা হলে কী ওষুধ দিতে হবে সেটাও ভরে দেওয়া হয়েছে রোবটদের ডেটা সিস্টেমে। হাসপাতালের নিরাপত্তারক্ষী থেকে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্বও তাদের। যান্ত্রিক হাত শরীরের তাপমাত্রা মাপছে, ওষুধও দিচ্ছে। রোগীদের জামাকাপড় কাচা, খাবার খাওয়ানো তাদের পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্বও এদেরই ওপরে। মানুষের জীবন বাঁচানোর দায়িত্ব এখন এদেরই হাতে।





