ক্যুরিয়ারের প্যাকেট থেকে স্টেইনলেস স্টিলের বাসন; সবেতেই বাসা বাঁধছে করোনা ভাইরাস

অ্যামাজন, ফ্লিপকার্ট এর মত অনলাইন অ্যাপে সারাদিন সময় কেটে যায়? সুইগি-জোম্যাটো কি আপনার নিত্যসঙ্গী? এরকম হলে এবার সাবধান হয়ে যান। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে শপিং করা বন্ধ করুন, এমন পরামর্শই দিচ্ছেন বিশ্বের তাবড় বিশেষজ্ঞরা। বৈজ্ঞানিকদের কথায়, ক্যুরিয়ারের প্যাকেটের মধ্যেও অজান্তেই লুকিয়ে চলে আসতে পারে করোনাভাইরাস বা COVID-19 ভাইরাস। দৈনন্দিনের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মধ্যেই বাড়তে পারে করোনা ভাইরাস, অসংখ্য গবেষণার পর এমনটাই বলছেন মন্টানার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অফ হেলথ ভাইরোলজি ল্যাবরেটরির গবেষকরা।

 

বিশ্বজুড়ে ত্রাসের আরেক নাম করোনা ভাইরাস। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা ‘হু’-ও সম্প্রতি একে মহামারী বলে ঘোষণা করেছে। গত কয়েকমাস ধরে এই ভাইরাস সংক্রান্ত নানা গবেষণা চলছে বিভিন্ন দেশে। এর আক্রমণ প্রতিরোধের সঠিক উপায় বের করার জন্য তোলপাড় করে ফেলছেন বিজ্ঞানীরা।

এর মধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে এক সাংঘাতিক তথ্য। কোন কোন জায়গায় করোনাভাইরাসের স্থায়িত্ব কতদিন কিংবা ঠিক কোন কোন জায়গা থেকে এই ভাইরাসের সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি মাত্রায় হতে পারে তাই নিয়ে গবেষণা চলছিল। এবার সামনে এল সেই গবেষণার ফলাফল। জানা গিয়েছে, মূলত প্লাস্টিক এবং স্টেইনলেস স্টিল-জাত জিনিসপত্রের মধ্যে সবচেয়ে বেশিদিন বেঁচে থাকতে পারে এই করোনা ভাইরাস। এইসব জিনিসে এই ভাইরাসের স্থায়িত্বের মেয়াদ অন্তত চারদিন। অন্যদিকে তামার জিনিসে করোনাভাইরাসের স্থায়িত্বের মেয়াদ মাত্র ৪ ঘণ্টা। তবে সেই ৪ ঘণ্টাও যথেষ্টই বিপজ্জনক।

চিন্তার বিষয় হল পাবলিক ট্রান্সপোর্ট থেকে চলার পথের প্রায় সর্বত্রই প্লাস্টিক এবং স্টেইনলেস স্টিলের নানা জিনিসে আমাদের হাত লাগে। বাড়িতেও এই দুই জিনিসের ব্যবহার হয়। এমনকি হাসপাতালেও হদিশ মেলে এই জাতীয় জিনিসপত্রের। আর এই দু’ধরনের জিনিসই করোনাভাইরাসের সবচেয়ে পছন্দের।

সংক্রমণ রুখতে বারবার সাবান দিয়ে হাত ধোওয়ার পাশাপাশি চলছে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবহার। চিকিৎসকরা বলছেন, হাত না ধুয়ে কোনওভাবেই সেটা মুখে লাগানো যাবে না। এরই মধ্যে আরেকটি চমকে যাওয়ার মতো তথ্য প্রকাশ্যে এনেছে জার্মানির রুঢ় (Ruhr) বিশ্ববিদ্যালয়।  তাদের গবেষণা জানিয়েছে, রুম টেম্পারেচারে নিজেদের শক্তি বাড়াতে পারে এই করোনাভাইরাস। সেটাও প্রায় ৯ দিনের জন্য। তবে গড়ে চার থেকে পাঁচদিন আয়ু থাকে এই ভাইরাসের। এছাড়াও Greifswald University Hospital-এর হাইজিন অ্যান্ড এনভারনমেন্টাল মেডিসিন বিভাগের প্রফেসর গুনার ক্যাম্পফ জানিয়েছেন, কম উষ্ণতা এবং অতিরিক্ত আর্দ্রতা করোনাভাইরাসের জীবনকাল বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

 

সারা বিশ্বে এখন করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ১ লক্ষ ২৫ হাজার ২৫৪ জন। ক্রমশ বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। এই তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর অনলাইন শপিং এবং ফুড ডেলিভারির ব্যবসায় আচমকাই ধস নামবে কিনা, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

RELATED Articles

Leave a Comment