লকডাউনের বাজারে অর্থনৈতিক মন্দা কমাতে কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অনেক নামী-অনামী বেসরকারি সংস্থা। কে কখন পিঙ্ক স্লিপ পাবেন কেউই বুঝতে পারছেন না। কৃষিক্ষেত্রের সংকটের সময় কৃষক আত্মহত্যার ঘটনা আমাদের দেশে নতুন নয়। কিন্তু এ বার কোভিড-১৯-এর ধাক্কায় কর্পোরেট কর্মীদেরও কি আত্মহত্যার প্রবণতা শুরু হতে চলেছে? কোচিতে ঘটে যাওয়া এক টেক কর্মীর আত্মহত্যার ঘটনা তো সেরকমই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
নামী তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা তাদের এক কর্মীকে ফোনে জানিয়েছিল যে তাঁর চাকরিটি আর নেই। এরপর ৭ই মে কোচির ওই কর্মী আত্মঘাতী হন। বাবাকে তিনি বলেছিলেন, ৬ই মে তিনি ফোনটা পান। ৭ই মে পরিবারের সঙ্গেই তিনি নৈশভোজ সারেন। এরপর বেডরুমে গিয়ে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেন ওই যুবতী। সকালে উদ্ধার হয় তাঁর ঝুলন্ত দেহ। স্টেশন হাউস অফিসার জানিয়েছেন, “প্রাথমিক তদন্তে আমাদের মনে হয়েছে, চাকরি হারানোর পরই অবসাদে আত্মহত্যা করেছেন ওই টেকি।”
লকডাউনের জেরে দেশজুড়ে যে কয়েকশো কর্মীর কাজ গিয়েছে, তাঁদেরই অন্যতম ছিলেন কাভালামের বাসিন্দা ২৬ বছরের যুবতী জিনামুল জোসেফ। তিনি কোনও সুইসাইড নোট রেখে যাননি। জিনার ভাই বলেছেন, ‘জিনার বাবা-মা এ ব্যাপার নিয়ে হইচই হোক এটা চান না। তাঁরা এই জন্য সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথাও বলতে চান না।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সংস্থার এক কর্মী বলেছেন, “আমরা জানতে পারি যে আমাদের কোম্পানি ছাঁটাই শুরু করেছে। অনেকেই ছাঁটাইয়ের তালিকা তৈরি করছিলেন। এটা খুব নিঃশব্দে হচ্ছিল। কেউ টের পায়নি। কারও চাকরিই নিশ্চিত ছিল না, তাই এর বিরুদ্ধে কেউ রুখে দাঁড়াতেও পারেননি।” যদিও এ ব্যাপারে কোম্পানির এইচআর ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন। বলেন, কোনও কর্মীর আত্মহত্যার খবর তাঁদের কাছে নেই। এ ব্যাপারে তিনি মিডিয়াকে কিছু বলতে পারবেন না।





