খবর ২৪x৭ ব্যুরো ডেস্কঃ দেখতে দেখতে ছয় বছরে পা দিল নরেন্দ্র মোদীর সরকার। ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনে জিতে পুনরায় ক্ষমতায় আসে বিজেপি। এই ছয় বছরে জগতসভায় ভারত আবার শ্রেষ্ঠ আসন নিয়েছে বলে দাবি বিজেপি নেতাদের। নরেন্দ্র মোদীর শাসনে বিশ্ব পরিচিতি পেয়েছে ভারত। তাই তিনি বিশ্বের জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, এমনই দাবি বিজেপির। দেশ আর জনতার বিকাশই তাঁর প্রধান লক্ষ্য তাই তো করোনা পরিস্থিতিতেও দেশকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
মোদি সরকারের এই ছয় বছরে তিনি কী কী প্রকল্প শুরু করেছেন? তাহলে চলুন দেখে নেওয়া যাক তার সরকারের কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প যেগুলি দেশবাসীর মন ছুয়ে গেছে-
১. স্বচ্ছ ভারত অভিযান প্রকল্প
প্রথমেই আসা যাক স্বচ্ছ ভারত অভিযান প্রকল্পে। “২০১৯ সালে যখন ভারত মহাত্মা গান্ধীর সার্ধশততম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করবে, তখন স্বচ্ছ ভারতই হবে তাঁর প্রতি আমাদের সেরা শ্রদ্ধার্ঘ্য”। ২০১৪ সালে ২রা অক্টোবর নতুন দিল্লির রাজঘাটে স্বচ্ছ ভারত অভিযানের সূচনা করে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী একথা বলেন। এই অভিযান সারা দেশের সর্বত্র জাতীয় আন্দোলন হিসেবে সূচনা হয়েছে। এই প্রকল্প দিয়েই নতুন ভারত তৈরীর কাজ শুরু করেন মোদী। তাঁর এই অভিনব কর্মসূচি দেশকে স্বচ্ছতার নিরিখে অনেক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যায়।
২. ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পরিষেবা
তারপর আসে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছনোর প্রকল্প। প্রায় ৩৬ কোটি গরীব মানুষের কাছে বিনামূল্যে এলইডি বাল্ব পৌঁছে দিয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার। দেশের ঘরে ঘরে জ্বলেছে আলো, মানুষের মুখে ফুটেছে হাসি।
৩. প্রধানমন্ত্রী জন ধন যোজনা
প্রধানমন্ত্রী জন ধন যোজনা আর্থিক দিক দিয়ে পিছিয়ে পড়া নাগরিকদের জন্য ২৮শে আগস্ট ২০১৪ সালে দিল্লিতে উদ্বোধন করেন নরেন্দ্র মোদী।
জনধন প্রকল্পে অ্যাকাউন্ট খুলে গরীব মানুষকে ব্যাঙ্কিং সুবিধা করে দিয়েছেন তিনি। বর্তমানে প্রায় ৩৮ কোটি মানুষ এই সুবিধা পেয়েছেন।
৪. নির্মল ভারত প্রকল্প
দেশের অন্যতম সমস্যা, প্রত্যন্ত অঞ্চলে শৌচাগার না থাকা। নির্মল ভারত প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত এই প্রকল্পে এই ছয় বছরে প্রায় ১০ কোটি শৌচাগার গড়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার, ফলে গ্রামের মানুষের যেমন অত্যন্ত সুবিধা হয়েছে তেমনই স্বচ্ছতার নিরিখে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেছে দেশ।
৫. প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা
প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা’(গ্রামীণ)-এর আওতায় গ্রামীণ বাসস্থান নির্মাণ প্রকল্প রূপায়ণের বিষয়টি অনুমোদিত হয় কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে। প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হয় এই বৈঠকটি। গ্রামের যে সমস্ত মানুষের মাথার ওপর ছাদ নেই কিংবা যাঁরা জীর্ণ ও ভাঙ্গা বাড়িতে বসবাস করেন তাঁদের পাকা বাড়ি নির্মাণের জন্য আর্থিক সহায়তাদানের প্রস্তাব গৃহীত হয়। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় ইতিমধ্যেই প্রায় ২ কোটি বাড়ি গড়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। মাথার উপর ছাদ পেয়ে ধন্য ধন্য করেছেন গরীব মানুষরা।
৬. প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনা প্রকল্প
প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনা প্রকল্পের জন্য কর্পোরেট নয় এমন সংস্থা এবং ক্ষুদ্র ও ক্ষুদ্রতম পুঁজির ব্যবসায়ীদের দশ লক্ষ টাকা পর্যন্ত লোন দেওয়া হয় বিনা গ্যারান্টিতে। বাণিজ্যিক ব্যাঙ্ক, গ্রামীণ ব্যাঙ্ক, সমবায় ব্যাঙ্ক, মাইক্রো ফিনান্স সংস্থা এবং নন-ব্যাঙ্কিং ফিনান্স সংস্থাগুলির মাধ্যমে এই ঋণ দেওয়া হয়।
এখনও পর্যন্ত মুদ্রা যোজনা প্রকল্প দ্বারা ২৪ কোটি লোককে আত্মনির্ভর হওয়ার জন্য লোন দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
৭. ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্প
২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে কেন্দ্রীয় সরকার ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্পটি ঘোষণা করে। তার দশ মাস পর, ২০১৫ সালের জুলাইয়ে, চালু হয় ‘স্কিল ইন্ডিয়া’ প্রকল্প। সরকারের প্রত্যাশা অনুযায়ী মেক ইন ইন্ডিয়া-র দৌলতে তৈরি হবে বিভিন্ন স্তরের দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীর চাহিদা, আর সেই প্রয়োজন মেটাবে স্কিল ইন্ডিয়া। বর্তমানে ৭০ লক্ষ তরুণ তুর্কি স্কিল ইন্ডিয়ার মাধ্যমে প্রশিক্ষণ নিয়ে আজ কর্মক্ষেত্রে সফল।
৮. প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি
কৃষিকাজের উন্নতির জন্য দেশে ৬০০০ টাকা করে তিন কিস্তিতে দেওয়া হচ্ছে গরীব কৃষকদের। সাথে তাদের লেবার সয়েল কার্ডও দেওয়া হচ্ছে।
৯. বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও
‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’ কর্মসূচির সূচনা হয় ২২শে জানুয়ারি, ২০১৫ তারিখে হরিয়ানার পানিপথে। এর সূচনা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং। কন্যাসন্তানের জন্মহার ক্রমশ হ্রাস পাওয়া এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলির কার্যকরী মোকাবিলায় এই কর্মসূচিটির কথা চিন্তাভাবনা করা হয়। একইসঙ্গে নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়টিকে যুক্ত করা হয় এই কর্মসূচির বিশেষ ধারণাটির সঙ্গে। কেন্দ্রীয় নারী ও শিশুবিকাশ মন্ত্রক, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রক এবং মানবসম্পদ মন্ত্রকের পারস্পরিক প্রচেষ্টার সমন্বয়ে রূপায়িত হচ্ছে ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’ কর্মসূচিটি। মহিলাদের উন্নতির জন্য বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও প্রকল্প নিয়েছেন মোদী এমনকি তাঁদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার জন্য সুকন্যা সমৃদ্ধি প্রকল্পও নিয়েছেন।
১০. প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনা
বিপিএল কার্ডধারী পরিবারগুলোর কোনও মহিলা সদস্যের নামে বিনা খরচে রান্নার গ্যাসের সংযোগ দেওয়ার লক্ষ্যে ‘প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনা’ কর্মসূচি অনুমোদিত হয় কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায়। প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে হওয়া ওই বৈঠকে এই প্রকল্পের আওতায় বি পি এল পরিবারগুলিতে ৫ কোটি রান্নার গ্যাসের সুযোগ পৌঁছে দিতে ৮ হাজার কোটি টাকার সংস্থান রাখার প্রস্তাব করা হয়। দেশের দরিদ্রতম পরিবারগুলির কোটি কোটি মহিলা সদস্যের সুবিধার্থে এই ধরনের একটি কর্মসূচি প্রথম চালু করে পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক।
উল্লেখ্য, আমাদের দেশের দরিদ্র পরিবারগুলি সাধারণভাবে রান্নার গ্যাসের সুযোগ থেকে বঞ্চিত। দরিদ্র পরিবারগুলিতে রান্নাবান্নার কাজে যে জীবাশ্ম জ্বালানি সচরাচর ব্যবহার করা হয়, তা স্বাস্থ্যের পক্ষে বেশ ক্ষতিকর বলে প্রমাণিত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রান্না ঘরে জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের মাধ্যমে আগুন জ্বলতে থাকায় যে ক্ষতি হয় তা প্রতি ঘণ্টায় ৪০০টি সিগারেট পুড়ে যাওয়ার ফলে পরিবেশের যে ক্ষতি হয় তার সমান।
লকডাউনের মধ্যেই অর্থমন্ত্রী ঘোষনা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনায় সারা দেশে আট কোটিরও বেশি রান্নার গ্যাস গ্রাহক এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিন মাসে তিনটি এলপিজি সিলিন্ডার বিনামূল্যে পাবেন।
এভাবেই আরও বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে দেশকে উন্নতির শিখরে নিয়ে চলেছেন নরেন্দ্র মোদী। ভবিষ্যতে আরও এগোবে ভারত এমনটাই আশা ভারতবাসীদের।





