লোকসভা নির্বাচন এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গেই দেশের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাতে শুরু করেছে। এবার একইসঙ্গে হাত ধরাধরি করেই লোকসভা ভোটে লড়বে বিজেপি ও বিজেডি। লোকসভা নির্বাচনের আগেই বিজেপির সঙ্গে ফের জোট বন্ধনে আবদ্ধ হতে চলেছে ওড়িশার শাসক দল বিজু জনতা দল। আর যদি এটা সত্যি হয়, তাহলে ১৫ বছর পর এনডিএ-তে ঘর ওয়াপসি হবে নবীন পট্টনায়েকের।
এবারের লোকসভা নির্বাচনের জন্য এনডিএ জোটকে ৪০০ আসনের লক্ষ্যমাত্রা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে গেলে নতুন জোটের দরকার। এবার বিজেপির সেই নতুন জোটসঙ্গী হতে চলেছে বিজেডি। আর এমনটা হলে ওড়িশায় গেরুয়া ঝড় আসতে কেউ আটকাতে পারবে না বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের।
বিজেডি জোট তাগ করার পর কখনও বিজেপিকে সরাসরি সমর্থন না করলেও সরাসরি কখনও আক্রমণও করে নি। বেশ সদ্ভাবই সবসময় বজায় রেখেছেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েক। রাজ্যসভায় মোদীর নানান বিলের সমর্থন করেছেন তিনি। এবার সরাসরি তিনি মোদীর হাত ধরতে চলেছে বলেই জল্পনা তুঙ্গে।
সূত্রের খবর, গতকাল, বুধবার নবীন পট্টনায়েকের বাসভবনে এই নিয়ে বিজেডির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। দিল্লিতেও শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা সেরেছেন বিজেডির এক নেতা। এই দুই বৈঠক শেষে বিজেডির সহ সভাপতি দেবীপ্রসাদ মিশ্র জানান, “বিজেপির সঙ্গে জোট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হলেও, সেটা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আমরা ওড়িশার স্বার্থ দেখব সবার আগে”।
প্রসঙ্গত, ১৯৯৮ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত বিজেডি এনডিএ জোটেই ছিল। নবীন পট্টনায়ক ওড়িশার মুখ্য়মন্ত্রী হওয়ার আগে, ১৯৯০-র দশকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীর মন্ত্রিসভায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রীও ছিলেন । কিন্তু ২০০৮ সালে কান্দামাল দাঙ্গার পত তিনি এনডিএ জোট ছেড়ে দেন।
ওড়িশায় লোকসভার আসন সংখ্যা ২১টি। সূত্রের খবর, এর মধ্যে বিজেপি দাবী করেছে ১৪টি আসনের। তবে সূত্রের খবর, বিজেপি হয়ত ১১ ও বিজেডি বাকি ৯টি আসনে লড়তে পারে। বর্তমানে ওড়িশার ৮টি লোকসভা আসন বিজেপির দখলে রয়েছে। আর বিজেডির হাতে রয়েছে ১২টি আসন। আর ১টি আসন রয়েছে কংগ্রেসের।





