চারদিনে তিনবার কংগ্রেসের সঙ্গে বৈঠক প্রশান্ত কিশোরের, ‘দলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই শেষ কথা, পিকে অনেক ভোটকুশলীদের মধ্যে একজন মাত্র’, খোঁচা তৃণমূলের

একদিকে ১০ জনপথ আর অন্যদিকে ৬১ সাউথ অ্যাভিনিউ। প্রথমটি সোনিয়া গান্ধীর বাসভবন আর দ্বিতীয়টি তৃণমূলের অস্থায়ী কার্যালয়। কিন্তু এই দুটি স্থানকেই গত মঙ্গলবার বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে দেখা গেল।

গত চারদিনের মধ্যে তিনবার কংগ্রেসের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোর। আর এদিকে সাউথ অ্যাভিনিউতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে কংগ্রেসকে বেলাগাম আক্রমণ করলেন তৃণমূলে সদ্য যোগ দেওয়া রিপুন বরা। এই পাশাপাশি প্রশান্ত কিশোর প্রসঙ্গে তৃণমূল নেত্রী সুস্মিতা দেব সাফ জানিয়ে দিলেন যে দলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যা বলছেন, সেটাই শেষ কথা। পিকে অনেক ভোটকুশলীদের মধ্যে একজন মাত্র।

গত সোমবার বেশ গভীর রাত পর্যন্ত কংগ্রেসের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রশান্ত কিশোর। গতকাল, মঙ্গলবার ফের প্রিয়ঙ্কা, মল নাথ, দিগ্বিজয় সিং, অম্বিকা সোনি, কে সি বেণুগোপাল, রণদীপ সুরজেওয়ালাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন তিনি। রাজনৈতিক শিবিরে এ নিয়ে আর কোনও অস্পষ্টতা নেই যেপিকে কংগ্রেসে যোগ দিতে চাইছেন তাঁর নিজের শর্তেই। কিন্তু সেই শর্ত কংগ্রেস শেষ পর্যন্ত কতটা মেনে নেবে, তা নিয়ে দর কষাকষির জন্যই এত বৈঠক বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

কংগ্রেসে পিকে-র যোগ দেওয়া প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে সুস্মিতা দেব আজ বলেন, “আমি সবেমাত্র গত অগস্টে তৃণমূল কংগ্রেস যোগ দিয়েছি। কিন্তু তাতেই যা দেখেছি। বাংলায় তৃণমূলের হয়ে কাজ করার জন্য অনেক ভোটকুশলী রয়েছেন। এক জনই যে রয়েছেন, এই ধারণা ঠিক নয়। হ্যাঁ তিনি ওই অসংখ্য ভোটকুশলীর এক জন।”

পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট করে দেন যে দলের অভ্যন্তরীণ সমীক্ষা অনুযায়ী বাংলার মানুষের কাছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গ্রহণযোগ্যতা ৭৫ শতাংশেরও বেশি। বিরোধী জোট গড়ার প্রশ্নে পিকে’র ভূমিকা কার্যত গুরুত্বহীন বলে মত সুস্মিতার।

এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “অনেক দিন আগেই মমতা বলেছিলেন বিজেপিকে পরাস্ত করতে বিরোধী দলগুলিকে একজোট করতে হবে। আমরা কোনও ভোটকুশলী বা অ-ভোটকুশলীকে নিয়ে মন্তব্য করতে চাইছি না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যা বলেছেন সেটাই থাকবে”।

এদিন কংগ্রেসকে কটাক্ষ শানিয়ে রিপুন বরা দাবী করেন যে কংগ্রেসের অন্তর্দ্বন্দ্ব ও দলের নেতাদের একাংশের সঙ্গে বিজেপির বোঝাপড়ার কারণেই তাঁকে দল ছাড়তে হয়েছে। তিনি বলেন, “কলকাতায় গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলোচনার পরে তৃণমূলে যোগদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি বিশ্বাস করতাম দেশকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাওয়া বিজেপির সঙ্গে লড়াই করার ক্ষমতা রাখে কংগ্রেস। কিন্তু দুঃখের সঙ্গে দেখলাম, বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করার বদলে কংগ্রেসের নেতারা নিজেদের মধ্যে ক্ষমতার লড়াইতেই ব্যস্ত। তার ফলেই অসমে বিজেপি ফাঁকা মাঠে গোল দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে”।

এদিকে আবার রিপুনকে সমর্থন করে সুস্মিতাও বলেন, “রাজ্যসভার ভোটে প্রবীণ রিপুন কংগ্রেসের হয়ে লড়লেও কংগ্রেসের নেতারা তাঁর হয়ে লড়েননি। এমনকি অসম থেকে রাজ্যসভায় কংগ্রেসের শেষ আসনটি ধরে রাখার চেষ্টাও চালায়নি দল। পরাজয়ের পরে রিপুনকেই দোষারোপ করা হয়েছে। কিন্তু উত্তর-পূর্বের এক জন কংগ্রেস নেতাও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করার সৌজন্যটুকু দেখাননি”।

RELATED Articles