টাকার বিনিময়ে সংসদে আদানি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি, এমনই অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে। সেই বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য লোকসভার এথিক্স কমিটির সভায় হাজিরা দেন তিনি। কিন্তু মহুয়ার সেখান থেকে হঠাৎই রনংদেহী মূর্তি ধারণ করে বেরিয়ে আসেন মহুয়া। তাঁর অভিযোগ, সভায় তাঁকে অনৈতিক, নোংরা প্রশ্ন করা হয়েছে।
মহুয়া এও অভিযোগ করেন যে ওই সভায় বিজেপি সাংসদ তথা কমিটির চেয়ারপার্সন বিনোদ সোনকার তাঁকে ‘মৌখিকভাবে বস্ত্রহরণ’ করেছেন। বিজেপি সাংসদের তীব্র নিন্দা করে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দেন মহুয়া। সেই চিঠি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে পোস্ট করেন তিনি।
তৃণমূল সাংসদের কথায়, এথিক্স কমিটির নাম পরিবর্তন করা উচিত। কারণ সেখানে নীতি-নৈতিকতা কিছুই নেই। তাঁর অভিযোগ, তাঁকে বিদ্বেষপূর্ণ, মানহানিকর প্রশ্ন করা হয়েছে আর তাতে পক্ষপাতিত্ব করেছেন কমিটির চেয়ারপার্সন। চিঠিতে মহুয়া লিখেছেন, “প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করার পরিবর্তে, বিদ্বেষপূর্ণ এবং স্পষ্টতই মানহানিকর প্রশ্ন করে চেয়ারম্যান এতটাই পক্ষপাতিত্ব দেখিয়েছেন যে, উপস্থিত ১১ সদস্যের মধ্যে ৫ জনই তাঁর লজ্জাজনক আচরণের প্রতিবাদে সভার কার্যক্রম বর্জন করেছেন”।
এমন ব্যক্তিগত অবমাননা এবং বিদ্বেষপূর্ণ আচরণের হাত থেকে সুরক্ষার অনুরোধ জানিয়েছেন মহুয়া। ওম বিড়লাকে চিঠিতে তিনি লিখেছেন, “স্যার, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এই সরকার দাবি করে যে মহিলাদের সম্মান এবং মর্যাদা সমুন্নত রাখার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করা হচ্ছে। তাহলেই ভাবুন, লোকসভার মাত্র ৭৮ জন মহিলা সদস্যের একজন হিসাবে এথিক্স কমিটির শুনানির নামে কমিটির চেয়ারপার্সনের দ্বারা ‘বস্ত্রহরণ’-এর শিকার হওয়াটা কতটা লজ্জাজনক”।
মহুয়া আরও লিখেছেন, “সুপ্রিম কোর্টের মতে গোপনীয়তা একটি মৌলিক অধিকার। একজন মহিলা সাংসদকে অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করে অপমান করা, যার মধ্যে আমি রাতে কার সঙ্গে কথা বলি, কতবার কথা বলি এবং সেইসব কলের বিবরণ চাওয়া হয়েছে – এটি অত্যন্ত নীচু মানসিকতার পরিচয়ের পাশাপাশি, আমার গোপনীয়তার মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন”।
My letter emailed to the Honourable @loksabhaspeaker pic.twitter.com/2wGlWTTej6
— Mahua Moitra (@MahuaMoitra) November 2, 2023
প্রসঙ্গত, ব্যবসায়ী দর্শন হিরানন্দানিএ সঙ্গে নিজের সংসদীয় ইমেল আইডি ও পাসওয়ার্ড শেয়ার করার অভিযোগ উঠেছে মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে। তবে সেই অভিযোগ খারিজ করে মহুয়ার বক্তব্য, তিনি শুধুমাত্র প্রশ্ন টাইপ করার জন্য হিরানন্দানির অফিসের সাহায্য নিয়েছিলেন সেই কারণেই এই তাঁর সংসদীয় ইমেল আইডি ও পাসওয়ার্ড শেয়ার করেছেন তিনি দর্শন হিরানন্দানির সঙ্গে। মহুয়ার ব্যাখা, ওটিপি ছাড়া লোকসভার পোর্টালে প্রশ্ন জমা দেওয়া সম্ভব নয়। তাই তাঁর অনুমতি ছাড়া কেউ কোনও প্রশ্ন জমা করেন নি।





