মুকুলের তৃণমূলে ওয়াপসিতে ত্রিপুরা বিজেপিতে শুরু দোলাচল, বিশেষ সফরে মুকুল ‘ভাবশিষ্য’ সুদীপ

মুকুল রায় তৃণমূলে ফিরে যাওয়ার পর থেকেই ত্রিপুরার বিজেপি মহলেও শুরু হয়েছে দোলাচল। মুকুল ঘনিষ্ঠ সুদীপ রায় বর্মণ রাজ্যজুড়ে বিশেষ সফরে বেরিয়েছেন। প্রাক্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দাবী, রাজ্যে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো ভেঙে পড়েছে, এই কারণে তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে কিছু পদক্ষেপ নিচ্ছেন। তবে রাজনৈতিক মহলের অন্দর বলছে, বিধানসভা নির্বাচনের আগে নিজের অবস্থান স্থির করতে চাইছেন সুদীপ।

গত বিধানসভা নির্বাচনের আগেই কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন সুদীপ ও তাঁর অনুগামীরা। এর জেরে ত্রিপুরার বিধানসভা কংগ্রেস শূন্য হয়ে পড়ে। প্রধান বিরোধী দল হয় তৃণমূল কংগ্রেস।

কিন্তু রাজ্য রাজনীতির মোড় ফের ঘুরে যায় যখন মুকুল রায় বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরই ফের সুদীপ ও তাঁর অনুগামীরা দলবদল করে বিজেপিতে যোগ দেন। এরপর গত সাড়ে তিন বছরে বিজেপি ও আইপিএফটি জোট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা নীতির নিয়ে বারবার সরব হয়েছেন সুদীপ রায় বর্মণ। এমনকি, তাঁকে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেন বিপ্লব দেব। এরপরই ত্রিপুরা বিজেপিতে গাঢ় হতে থাকে বিভাজন।

আরও পড়ুন- কেন্দ্রীয় মন্ত্রীত্বের দৌড়ে দিলীপ! তালিকায়‌ একাধিক সংসদের নাম  

সুদীপ রায় বর্মণের শিবিরের বিধায়করা ধর্না দেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডার কাছে। স্লোগান ওঠে “বিপ্লব হটাও, ত্রিপুরা বাঁচাও”। তাদের দাবী, হাসির খোরাক হওয়া বিপ্লব দেবকে মুখ্যমন্ত্রীর পদে রাখলে পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির ভরাডুবি হবেই।

এদিকে, পশ্চিমবঙ্গেও বিজেপি মোটামুটি ভালো ফল করলেও সরকার গড়তে পারেনি। এর উপর গত শুক্রবার সপুত্র মুকুল রায় ফের ফিরে আসেন তৃণমূলে। জানান, কেউ আর বিজেপিতে থাকবে না। যেসমস্ত নেতা-বিধায়করা তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে গিয়েছিলেন, তারা যে ফের ফিরে আসবেন, এমন ইঙ্গিতই দেন তিনি। এরপরই ত্রিপুরার বিজেপি মহলে শুরু হয় হইচই।

তৃণমূল সূত্রে খবর, ত্রিপুরার আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বড়সড় ভাবে আত্মপ্রকাশ করতে পারেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর পছন্দের তালিকাতেই রয়েছেন সুদীপ রায় বর্মণ। বঙ্গ রাজনীতির বাইরে ত্রিপুরায় তৃণমূল ক্ষমতা গড়ার চেষ্টা করছে। মুকুল ‘ঘর ওয়াপসি’ করতেই ত্রিপুরার বিজেপিতেও দেখা দিয়েছে অন্ধকার।

RELATED Articles