লজ্জাজনক! ২ মহিলাকে গণধ’র্ষ’ণের পর ন’গ্ন করে রাস্তায় প্যারেড, মণিপুরের ঘটনায় ফুঁসছে দেশ, অপরাধীদের কঠোরতম শাস্তির দাবী প্রধানমন্ত্রীর

প্রায় তিনমাসের বেশি সময় ধরে জ্বলছে মণিপুর। তবুও হিংসা ও অশান্তি থামছেই না সে রাজ্যে। এরই মধ্যে সে রাজ্যের এক লজ্জাজনক ভিডিও সামনে এল যা নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছে গোটা দেশ। দুই মহিলাকে গণধ’র্ষ’ণের পর ন’গ্ন অবস্থায় রাস্তায় হাঁটানো হল, এমনই ভিডিও সামনে এসেছে। এই ঘটনায় অপরাধীদের কঠোরতম শাস্তির দাবী করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

অভিযোগ, ওই দুই মহিলাকে একটি ফাঁকা মাঠে নিয়ে গিয়ে গণধ’র্ষ’ণ করা হয়। তারপর তাদের প্রকাশ্য রাস্তায় বিবস্ত্র করে হাঁটতে বাধ্য করে এক দল ব্যক্তি। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই নিন্দার ঝড় বয়ে গিয়েছে গোটা দেশে। শাসক থেকে বিরোধী সকলেই এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে।

ঘটনাটি ঠিক কী ঘটেছিল?

নিন্দনীয় এই ঘটনাটি ঘটেছে গত ৪ মে। মণিপুরের রাজধানী ইম্ফল থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরে কাঙ্গপোকপি জেলায় দুই মহিলাকে একদল ব্যক্তি জোর করে ন’গ্ন করে রাস্তায় ঘোরায়। তার আগে ওই মহিলাদের গণধ’র্ষ’ণ করা হয় বলে অভিযোগ।

ইন্ডিজেনাস ট্রাইবাল লিডার্স ফোরামের তরফে বিবৃতি জারি করে জানানো হয়েছে, নিগৃহীত দুই মহিলা কুকি সম্প্রদায়ের। ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, কাতরভাবে সাহায্যের আর্জি জানাচ্ছিলেন ওই দুই মহিলা। কিন্তু তবুও কেউ এগিয়ে আসেননি। পুলিশের দাবি, ঘটনাটি অন্য জেলায় ঘটেছে। কাঙ্গপোকপি জেলা থেকে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।

এই ঘটনা সামনে আসতেই মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিং পুলিশি তদন্তের নির্দেশ দেন। কেন্দ্রীয় মহিলা ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী স্মৃতি ইরানিকে তিনি ফোন করেন বলে জানান তিনি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান অপরাধীদের ছাড় দেওয়া হবে না কোনওমতে। এই ঘটনায় অপহরণ, গণধ’র্ষ’ণের মামলা দায়ের হয়েছে। দ্রুত অপরাধীদের গ্রেফতার করা হবে।

এই ঘটনায় অপরাধীদের চূড়ান্ত শাস্তির দাবী মোদীর

আজ, বৃহস্পতিবার বাদল অধিবেশন শুরুর আগে মণিপুরের এই ঘটনা নিয়ে সরব হন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই ঘটনাকে লজ্জাজনক আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “লোকতন্ত্রের মন্দিরে দাঁড়িয়ে আজ আমার মন ভারাক্রান্ত, ক্রোধে ভরে গিয়েছে মণিপুরের ঘটনায়। যারা পাপ করছেন, তারা তো এক জায়গায় রয়েছেন। কিন্তু তাদের জন্য গোটা দেশ লজ্জিত হচ্ছে। সকল মুখ্যমন্ত্রীদের কাছে অনুরোধ করছি, রাজ্যের আইন ব্যবস্থা আরও কঠোর করুন। বিশেষ করে মা-বোনেদের সম্মান রক্ষার্থে যেন কোনও খামতি না থাকে। ঘটনা রাজস্থানেরই হোক বা ছত্তীসগঢ়ের কিংবা মণিপুরের, দেশের কোনও প্রান্তেই মহিলাদের অসম্মান করা যাবে না। সমস্ত রাজনীতির ঊর্ধ্বে গিয়ে মহিলাদের সুরক্ষা ও সম্মান রক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। মণিপুরের ঘটনায় অপরাধীদের কঠোর থেকে কঠোরতর শাস্তি দেওয়া হবে”।

RELATED Articles