বিগত তিনদিন ধরে গোটা দেশ উত্তাল উত্তরপ্রদেশের হাথরাসে গণধর্ষণে মৃত্যু হওয়া দলিত কিশোরী মনীষা বাল্মিকীকে নিয়ে। যেভাবে উচ্চবর্ণের কয়েকজন হিন্দু তাকে নৃশংস অত্যাচার করে গণধর্ষণ করে খুন করেছে তা নিয়ে রীতিমতো সরব সকলে। তবে সব থেকে বড় প্রশ্ন উঠেছে উত্তরপ্রদেশ প্রশাসন ও পুলিশ কে নিয়ে। দিল্লির সফদরজং হাসপাতাল থেকে মনীষার মৃতদেহ রীতিমতো হাইজ্যাক করে নিয়ে গিয়ে ফাঁকা মাঠে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে দেওয়া হয় উত্তর প্রদেশ পুলিশের তরফ থেকে। হাজার কাকুতি-মিনতির পরেও শেষবারের মত মেয়েকে দেখার এবং সৎকার করার অনুমতি মেলে না পরিবারের। এমনকি উত্তর প্রদেশ পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়, ময়নাতদন্তের রিপোর্টে নাকি বলা হয়েছে কোনো ধর্ষণই হয়নি!
এবার সংবাদমাধ্যমের কন্ঠরোধে উদ্যোগী হল যোগী সরকারের পুলিশ। কোন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিকে যেমন হাতরাসে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না সেরকম ভারতের কোন সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিদের এই গ্রামে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না উত্তর প্রদেশ পুলিশের তরফ থেকে। সাংবাদিকদের উপর চলছে অকথ্য অত্যাচার। আজ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম যেমন নিউজ ১৮ নেটওয়ার্ক, এবিপি-র প্রতিনিধিরা ওই গ্রামে ঢুকতে গেলে তাদেরকে আটকে দেওয়া হয়। এবিপি সাংবাদিক প্রতিমা মিশ্র এবং ক্যামেরাম্যান মনোজ কে রীতিমতো টেনে হিঁচড়ে নিয়ে গিয়ে পুলিশ ভ্যানে তোলা হয়। কোনোভাবেই ওই নির্যাতিতার পরিবারের কাছে পৌঁছানো যাচ্ছে না মিডিয়ার তরফ থেকে এবং টিভির পর্দায় উত্তর প্রদেশ পুলিশের বর্বর আচরণ রীতিমতো ধরাল পড়ছে। এরফলে গোটা দেশ জুড়ে প্রবল বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।
তবে ওই পরিবারের এক কিশোর কোনভাবে লুকিয়ে ধানক্ষেতে চলে আসে এবং মিডিয়ার সম্মুখীন হয়। তার কাছ থেকেই জানা যায় উত্তর প্রদেশ প্রশাসনের ভয়ঙ্কর হিটলারি রূপ। সে জানায় যে, প্রায় দেড়শ জন পুলিশ তাদের বাড়িকে ঘিরে রয়েছে এবং তাদের পরিবারের সমস্ত মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করে নেওয়া হয়েছে। তাদেরকে কারো সঙ্গে দেখা করতে বা কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না। তারা উত্তর প্রদেশ পুলিশের হাতে রীতিমতো গৃহবন্দি রয়েছে দু’দিন ধরে।
এখানে প্রশ্ন উঠছে যে, পুলিশের কথা অনুযায়ী যদি ধর্ষণ নাই হয় তাহলে এত লুকোচুরি কীসের? কেন সংবাদমাধ্যম অথবা অন্যল কাউকে ওই নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না? ওই গ্রামেই কেন ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না কাউকে? এত পুলিশ দিয়ে নিরাপত্তা দেওয়া কেন? তবে কি উত্তরপ্রদেশের উচ্চবর্ণ বনাম দলিতের সেইল্ল জটিল সমীকরণ ফাঁস হয়ে যাবে এটাই ভয় যোগী সরকারের?
আকাশে বাতাসে এখন ভেসে বেড়াচ্ছে এই প্রশ্নই। গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসাবে পরিচিত সংবাদমাধ্যম নিজেদের কাজ করতে গিয়েছিল ওই গ্রামে। কিন্তু যেভাবে তাদেরকে আটকে দেওয়া হলো সরকারের তরফ থেকে তাতে উত্তরপ্রদেশে গণতন্ত্র রয়েছে কিনা সেই নিয়েই উঠে যাচ্ছে প্রশ্ন।





